সম্রাজ্ঞী নূর জাহানের প্রতিকৃতি
ফিচার

আজ মুঘল সম্রাজ্ঞী নূর জাহান- এর জন্মদিন

সাননিউজ ডেস্ক

নূর জাহান (১৫৭৭ - ১৬৪৫) একজন মুঘল সম্রাজ্ঞী যাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল মেহের উন নিসা । ইনি মুঘল সম্রাজ্ঞী ও সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রধান মহিষী (স্ত্রী) ছিলেন। একজন বলিষ্ঠ, সম্মোহনী ও উচ্চশিক্ষিতা নারী হওয়ায় তাকে ১৭শ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী ভাবা হয় । ইনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিশতম ও সর্বাপেক্ষা প্রিয়া স্ত্রী ছিলেন যিনি মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বোৎকৃষ্ট পর্যায়ে রাজত্ব করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। তাদের ভালোবাসা অনেক কিংবদন্তির (প্রায়শ প্রশ্নসাপেক্ষ) জন্ম দিয়েছে ।

তাঁর দ্বিতীয় স্বামী সম্রাট জাহাঙ্গীরের মদ্য ও আফিমের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকায় নূর জাহান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় ভূমিকা পালন করেন, যাকে সিংহাসনের পেছনের মূল শক্তি ধরা হয় । তিনি শুধু ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারিণীই ছিলেন না সেই সাথে ভারতীয় সংস্কৃতি, দাতব্য কাজ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও লৌহমানবীর ন্যায় ক্ষমতা পালনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন । তিনি সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের ফুফু ছিলেন, যাঁর জন্য সম্রাট শাহজাহান তাজমহল তৈরি করেন। এছাড়াও তিনিই একমাত্র মুঘল সম্রাজ্ঞী, যাঁর নাম রৌপ্যমুদ্রায় অঙ্কিত আছে ।

নুরজাহান বা জগতের আলো(জন্মঃ ৩১ মে, ১৫৭৭ – মৃত্যুঃ ১৭ ডিসেম্বর, ১৬৪৫) হচ্ছে সম্রাট জাহাঙ্গীর এর দেয়া নাম। তার আসল নাম ছিল মেহেরুন্নিসা। মেহেরের বাবা ছিলেন গিয়াস বেগ। তার বাবা ইতিমাদ দৌলা ও মা যখন তেহেরান থেকে ভাগ্যের সন্ধানে হিন্দুস্তান আসছিলেন তখন পথের মধ্যেই নির্জন মরু প্রান্তে এক বাবলা গাছের তলায় জন্ম হয় মেহেরুন্নিসার। গল্প আছে যে এই সময় গিয়াস বেগ ও তার পত্নী এমন দুর্দশায় পরেছিলেন যে মেয়ে কে বাঁচাবার কোন উপায় না পেয়ে তারা পথের মাঝেই কচি মেয়েকে শুইয়ে রেখে রওয়ানা হন। আশা ছিল কোন সহৃদয় ব্যক্তি যদি তাকে পায় নিয়ে আশ্রয় দিবে। কিছুদূর যাবার পর ই শিশু কন্যার কান্না শুনে তারা আর থাকতে পারলেন না। ফিরে এসে মেয়েকে বুকে চেপে নিঃসহায়, নিঃসম্বল গিয়াস বেগ এসে পৌঁছালেন লাহোরে। এবার তার ভাগ্য পরিবর্তন হল। আকবর বাদশার সুনজরে পরলেন তিনি, আর ছোট মেয়ে মেহেরের স্থান হল হেরেমে।

নূরজাহান শারীরিকভাবে শক্তিশালী ছিলেন। তিনি প্রায়ই সম্রাটের সাথে বাঘ শিকারে জেতেন।শক্তিশালী বাঘ শিকারি হিসেবে তার খ্যাতি ছিল। কথিত আছে তিনি ৬ টি গুলি দিয়ে ৪ টি বাঘ শিকার করেছিলেন। তার বীরত্বের কবিতাও লিখেছেন অনেক কবি।

ইংরেজ দূত টমাস রো লিখে গেছেন মেহের আসলে দেশ শাসন করত। জাহাঙ্গীর ছিল নাম কেওয়াস্তে সম্রাট। সেই সময়কার মুদ্রাতে জাহাঙ্গীর এর সঙ্গে নুরজাহানের ছবিও ছাপা হত। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করতেন। জাহাঙ্গীর এর রাজত্তের শেষ দিকে যখন তার ছেলে খুররম ও সেনাপতি মহাব্বত খা বিদ্রোহ করেন তখন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন নুরজাহান।

মেহেরের বিয়ে ঠিক হয় তুর্কিস্তানের শের আলি কুলি বেগ এর সঙ্গে। আলি কুলি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, নির্ভীক ও সচ্চরিত্র যুবক। একলা খালি হাতে বাঘ মারার জন্য তার নাম হয় শের আফগান। শোনা যায় মেহের একবার যুবরাজ সেলিমের নজরে পড়ে জান। সেলিম ও অমনি খেপে উঠলো মেহের কে বিয়ে করার জন্য। বাদশাহ আকবর এর কাছে আর্জি পউছে গেলো তার বিয়ের। কিন্তু নিজের বংশ মর্যাদার কথা ভেবে সেলিমকে নিষেধ করে আলি কুলির সঙ্গে মেহেরের বিয়ে দেন। মেহেরের বয়স তখন ষোল। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে চলে যান বর্ধমান।

শেরের মৃত্যুর পর মেহেরকে আগ্রাতে নিয়ে আসা হয়। তখন মেহেরের বয়স তেত্রিশ। ওই বয়সেও তিনি অপূর্ব রূপসী ছিলেন। মোঘল হেরেমে থেকেও দীর্ঘ চার বছর সম্রাটকে দেখেননি। তারপর আর পারলেন না সম্রাটকে ফেরাতে। সাইত্রিশ বছর বয়সে বিয়ে (২৫ মে, ১৬১১ খ্রিষ্টাব্দ) করেন জাহাঙ্গীরকে। জাহাঙ্গীর তার নাম দিলেন নুরজাহান বা জগতের আলো।

নূরজাহানের শেষ জীবন সুখের হয় নি। তার বিরাট উচ্চাকাঙ্ক্ষাই ছিল দায়ি। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর নূরজাহানও লাহোরেই থেকে যান শেষ পর্যন্ত। অবশেষে বাহাত্তর বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই লাহোরেই। তার কবরের গাঁয়ে তার রচিত দুটি লাইন দেখতে পাওয়া যায়, ফারসিতে লেখা। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলায় অনুবাদ করেন:

"গরীব গোরে দ্বীপ জেলো না,

ফুল দিও না কেউ ভুলে, শ্যামা পোকার না পোড়ে পাখ,

দাগা না পায় বুলবুলে।"

সূত্র: উইকিপিডিয়া

সাননিউজ/ইউকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

একটি দলের ৭১ ও স্বাধীনতার কথা শুনলেই গাত্রদহ হয়- এমপি খোকন তালুকদার

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন,বর্তমান সময়ে এ...

  নোয়াখালীতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে দোয়া ও মেজবানি  

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষি...

টঙ্গীবাড়িতে বাবা-ছেলে মিলে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ, আটক দুই

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চাঠাতি পাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বা...

ধানমন্ডিতে প্রথম জানাজা আজ, মায়ের পাশেই শায়িত হবেন তোফায়েল

বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের প্রথম...

লক্ষ্মীপুরে পরিত্যক্ত ঘর থেকে এক নলা বন্দুক উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানায় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন তথ্যের ভিত্ত...

হজের পবিত্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

পবিত্র হজ পালন সম্পন্ন করে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্...

পরমাণু চুক্তিতে ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলার!

পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলে যুক্তরাষ...

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বন্ধ দোকানপাট

দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আবারও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশ...

খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণ, নিখোঁজ ফাতেমা

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক...

গজারিয়াতে বিএনপি'র দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত- ৩

​মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরবলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বি...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা