মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জারিকারক লুৎফা আক্তার (৪৫) ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পরও এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমির নামজারি ও বিভিন্ন নথি সংক্রান্ত কাজে নিয়মিত ঘুষ নেওয়া হতো। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী ঘুষ প্রদানের মুহূর্তটি গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। তাতে দেখা যায়, লুৎফা আক্তার টেবিলে বসে ঘুষের টাকা গুনছেন এবং বলছেন— আপনার কাজ হয়ে যাবে, চিন্তা করবেন না।
ভিডিওটি অনলাইন, ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। তারা বলছেন, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পক্ষে একাধিক ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত না করায় দুর্নীতিবাজরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লুৎফা আক্তার বর্তমানে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জারিকারক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি অন্য একটি ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুন্সীগঞ্জ শহরের আফতাব প্লাজা ও জিএইচ সিটি সেন্টারে দুটি ফ্ল্যাট কিনেছেন, যার মূল্য কোটি টাকার ওপরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, পঞ্চসার ইউনিয়ন ভূমিটি শিল্প এলাকায়। এখানে জমি থাকলে ভূমি অফিসের কাছে জিম্মি হয়ে পড়তে হয়। তাদের ভাষায়, ঘুষ দিবে যে, নেবে যে— দুজনেই অপরাধী। কিন্তু বাস্তবে ঘুষ না দিলে কোনো কাজই হয় না এ ভূমি অফিসে।
এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানির ম্যানেজার। একটি কাজে এক লাখ টাকার বেশি ঘুষ দেওয়ার পরও লুৎফা উল্টো আমাকে দালাল বলে কটু কথা বলেছেন। এতে লজ্জায় পড়তে হয়েছে।”
আরেকজন জানান, লুৎফা তার স্কুলের বান্ধবীকেও ছাড় দেননি। ওই বান্ধবী ৮০ হাজার টাকা লুৎফার হাতে এবং অন্য অফিসারের হাতে এক লাখ টাকা দিলেও নামজারি কাজ সম্পন্ন হয়নি।
লুৎফা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “অফিসে এসে কথা বলুন।”
পঞ্চসার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আবুল খায়ের শামীম বলেন, “টাকার লেনদেনের বিষয়ে আমি অবগত নই।” লুৎফার সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিধিমালা অনুযায়ী হলফনামায় সম্পদের বিবরণ থাকে কি না, তা আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার বলেন, “ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি আমরা জেনেছি। জেলা প্রশাসন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
সাননিউজ/আরপি/আরএ