ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন চলছে।
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি বলছে, সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্র মেরামতে পূর্বঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বিএনপি। গুরুত্ব বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদিও এটি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের সন্তান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন এবং রসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যা অনার্স এবং এম.এস.সি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা-ইন এডুকেশন সমাপ্ত করেন।
১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচীতে এলে সেই কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে স্কুল জীবনেই এ্যানি চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি সরকারী বিজ্ঞান কলেজ ঢাকায় ভর্তি হন এবং সেখানেও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, ১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন।
১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৩ বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে, ১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক ও ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন।
১৯৯৬-১৯৯৮ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ত্বের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনকমিটির সমন্বয়ক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
সান নিউজ/আরএ