জাতীয়

উপসচিব পদে পদোন্নতিতে জেলা প্রশাসকদের গোপনীয় প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রশাসনে পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বাইরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। উপসচিব পদে আসন্ন পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ নিয়েছে এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড)।

১৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে তথ্য পাঠাতে গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এভাবে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গোপনীয় প্রতিবেদন নেয়ার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। অনেকটা বিলম্বে হলেও এ দাবি পূরণ হওয়ায় সাধারণ কর্মকর্তারা খুশি। তবে সঠিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মর্যাদা সুরক্ষাসহ ডিসির ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সংসদীয় কমিটির এক সভায় তিনি এ বিষয়ে বিশদ বক্তব্যও দেন। সেখানে তিনি বলেন, অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কারণে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে থাকেন-যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এ কারণে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গোয়েন্দা প্রতিবেদন যাচাই করে নিতে তিনি সে সময় উল্লিখিত অনুশাসন দিয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, ২৭তম ব্যাচকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে সেটি বেশিদূর এগোতে পারেনি। ১৩তম ব্যাচ থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার ঝুলে থাকা প্রক্রিয়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এখন আগামী মাসে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার শেষ প্রস্তুতি চলছে। তবে এই পদোন্নতিকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও অর্থবহ করতে ডিসিদের মাধ্যমে গোপনীয় প্রতিবেদন নেয়া হচ্ছে।

প্রশাসনে বেশিরভাগ কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের এ গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি পূরণ করতে গত সপ্তাহে ডিসিদের কাছে এ সংক্রান্ত অতি গোপনীয় চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত কর্মকর্তাদের জেলাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য লিপিবদ্ধ করতে সঙ্গে একটি ছক সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

যেখানে প্রথমে রয়েছে কর্মকর্তার নাম ও পরিচিতি নম্বর (যদি থাকে) এবং বর্তমান কর্মস্থলের নাম। এরপর লিখতে হবে স্থায়ী ঠিকানা। তৃতীয় ধাপে কর্মকর্তার রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং চতুর্থ ধাপে লিখতে হবে কর্মকর্তার পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শ। এ ছাড়া ছক আকারে এই প্রতিবেদনের সঙ্গে আরও চারটি তথ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবারের কোনো সদস্য কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না; তার পরিবারের অন্য সদস্যদের রাজনৈতিক মতাদর্শ কী; পরিবারের কোনো সদস্য সরকার কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে নিয়োজিত ছিলেন কিংবা আছেন কি না এবং সব শেষে, সরকারি চাকরি পাওয়ার পর কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত দৃশ্যমান কোনো তথ্য-প্রমাণ কিংবা জনশ্রুতি আছে কি না।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদোন্নতি প্রত্যাশী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠপর্যায়ে কর্মরত ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডদের মাধ্যমে তথ্য নিচ্ছেন ডিসিরা। ইউএনও ও এসি ল্যান্ডরা তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করছেন তার অফিস স্টাফ ও তহশিলদারদের। কিন্তু এভাবে যাকে-তাকে দিয়ে এ ধরনের গোপনীয় স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সান নিউজ/এসকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্প-শি ফোনালাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট...

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বাংলা এক...

নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাবেক স্প...

নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহ-মোকাদ্দাসের সন্ধানের দাবি ইবিতে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাস...

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কুষ্টিয়ায় বিজিবির প্রেস ব্রিফিং

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা