আন্তর্জাতিক

মহাকাশ থেকে নির্বিঘ্নেই ওরা ঝাঁপ দিলেন সমুদ্রে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

ঝড়ের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার ক্যাপসুলে উঠেছিলেন দুই মার্কিন নভোচারী। যদিও প্রকৃতি বিরূপ হয়নি। রবিবার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ৫৫ মিনিট নাগাদ চারটি প্যারাসুটে ভর করে নির্বিঘ্নেই মেক্সিকো উপসাগরে নেমে এল স্পেসএক্স সংস্থার সেই ক্যাপসুল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের কন্ট্রোলরুম তখন হাততালিতে ফেটে পড়ছে। চারপাশ থেকে ছুটে আসছে স্পিডবোট। একটু পরেই জাহাজে তুলে নেওয়া হল সেই ক্যাপসুলকে।

চারমাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন ডগলাস হার্লি এবং বব বেনকেন। ৪৫ বছর পরে এই প্রথম সমুদ্রে নামল মার্কিন মহাকাশ-ক্যাপসুল। গত কাল পর্যন্ত এই দুই নভোচারীর ফেরা ঘিরে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, বাহামার দিক থেকে ধেয়ে আসছে ঝড় ‘ইসাইয়াস’। অশান্ত হচ্ছে সমুদ্র। অথচ ফ্লোরিডা উপকূলের কাছে সমুদ্রেই নামার কথা ‘স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন’ স্পেসক্রাফ্টের। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তারা কীভাবে সমুদ্রে নামবেন, কীভাবে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হবে, সব নিয়েই চিন্তায় ছিল নাসা। এক বার এ-ও শোনা গিয়েছিল, ফেরার ‘টিকিট’ বাতিল করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দু’দিন বাদে ফিরবেন তারা। কিন্তু শেষমেশ আর তা করা হয়নি।

মহাকাশ স্টেশনে দুই নভোচারীর সম্মানে ‘ফেয়ারওয়েল’ অনুষ্ঠান হয়। ‘নাসা টিভি’-তে দেখানো হয় সেই অনুষ্ঠান। হার্লি বলেন, ‘‘আর একটু পরেই যানে উঠব, তার পর অবতরণ ও পানিতে ঝাঁপ।’’ আরও বলেন, ‘‘দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। বিশেষ করে আবহাওয়ার যা গতিপ্রকৃতি।’’ বেনকেনের কথায়, ‘‘অভিযানের সবচেয়ে কঠিন ধাপ উৎক্ষেপণ। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নভোচারীদের নিরাপদে ঘরে ফেরানো।’’ নাসা টিভিতে দেখা যায়, বেনকেনের হাতে একটি খেলনা ডায়নোসর। বাবার সঙ্গে প্রিয় খেলনাটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল বাচ্চারা। বেনকেন তাঁর ও সঙ্গীর ছেলেমেয়েদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘ট্রেমর, দ্য অ্যাপাটোসরাস এ বার বাড়ি ফিরছে। বাবার সঙ্গেই ফিরছে।’’

গত ৩০ মে মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিল স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন। ২০১১ সালের পরে এই প্রথম আমেরিকার মাটি থেকে মহাকাশে রওনা দেওয়া যান এটি। অভিযানের আর একটি বিশেষত্ব ছিল, প্রথম বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে মহাকাশ পাড়ি। তবে আসল লক্ষ্য ছিল, রাশিয়ার উপর থেকে নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠা। ‘স্পেস শাটল’-গুলির মেয়াদ ফুরনোর পর থেকে মহাকাশে মানুষ পাঠাতে হলে রাশিয়ার সয়ুজ মহাকাশযানের উপরে নির্ভর করতে হত নাসাকে। কিন্তু তা ব্যবহারের জন্য আসন-পিছু ৮ কোটি ডলার দিতে হতো আমেরিকাকে। এজন্য দীর্ঘদিন তারা নতুন স্পেসক্রাফ্ট তৈরির চেষ্টায় ছিল।

‘স্পেসট্যাক্সি’ তৈরিতে স্পেসএক্স এবং উড়ান সংস্থা বোয়িংকে ৭০০ কোটি ডলার অর্থসাহায্য দিয়েছিল মার্কিন সরকার। গত বছর ব্যর্থ হয় বোয়িংয়ের প্রচেষ্টা। আশা-ভরসা ছিল স্পেসএক্স। বেনকেনদের নিরাপদে ঘরে ফেরা সেই সাফল্যের খবরও নিয়ে এল।

সান নিউজ/ এআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্প-শি ফোনালাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট...

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বাংলা এক...

নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাবেক স্প...

নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহ-মোকাদ্দাসের সন্ধানের দাবি ইবিতে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাস...

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কুষ্টিয়ায় বিজিবির প্রেস ব্রিফিং

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা