সারাদেশ

কৃষকের স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে নিলেন কৃষি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ফেনী : স্বাক্ষর জাল করে কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত টাকাসহ সরকারের বিভিন্ন কৃষিপণ্যে কৃষকের নামে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) ফুলগাজীর কৃষক নুরুল হক, আবুলুল কাদের, শহীদুল, মহি উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলায় কৃষি উন্নয়ন এবং লেবু জাতীয় ফল চাষের দুটি বিশেষ প্রকল্পের অধীনে ৪৬০ কৃষক রয়েছেন।

এর অনুকূলে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী কৃষক হিসেবে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ৯০টি লেবু জাতীয় ফল বাগানের জন্য সাইট্রাস প্রকল্পে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই টাকায় বিভিন্ন ধরনের সার ও বীজ দেয়ার কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত কোনও চাষি কিছুই পাননি।

এর পর তারা দেখতে পান প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় কৃষকদের নামের পাশে স্বাক্ষর দেয়া রয়েছে। অথচ সেই স্বাক্ষর তাদের নয় বলে দাবি করছেন, যা দেখে হতবাক হয়েছেন দরিদ্র কৃষকরা।

রহিম নামে এক কৃষক বলেন, আমার ও অপর একজন কৃষকের নামের পাশে যে স্বাক্ষর দেখেছি, তা আমাদের নয়। আমার এ স্বাক্ষর জাল। আমরা দেখেছি, স্বাক্ষর শিটে যত সুন্দর করে আমাদের অনেকের স্বাক্ষর দেয়া আছে, তা আমরা দিইনি। এত সুন্দর করে আমরা নাম লিখতে পারি না। এই প্রকল্পের আওতায় কিছু পরিত্যক্ত গাছের চারা ছাড়া আর কোনও রকম সুবিধা আমাদের দেয়া হয়নি।

কাগজ-কলমে সুবিধা পাওয়া মাল্টা চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, মাল্টা গাছের প্রতিটির জন্য ৬০ টাকা বরাদ্দ হলেও কৃষকদের ১০-১৫ টাকার নিন্মমানের চারা সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে এর বেশির ভাগ গাছ মরে গেছে। যেগুলো বড় হচ্ছে সেগুলোরও ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষক আবুল কালাম জানান, এর আগে সাইট্রাস প্রকল্পের সুবিধাভোগী ৯০ কৃষককে প্রায় সোয়া ৫ লাখ টাকার চুন-সার আর পরিবহন বিলসহ সরঞ্জামাদি দেয়া হয়নি। দরবারপুর ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম জানান, তিনি দুদিন ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এতে সকালে নাস্তা ছাড়া আর কোনও টাকা-পয়সা দেয়া হয়নি। অথচ তার নামে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ১৩৫০ টাকা ভাতা উত্তোলন দেখানো হয়েছে।

আনন্দপুর ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন মজুমদার জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ১০-১৫ টাকা দামের নিম্নমানের মাল্টা চারা দেয়া হয়েছে, যার কোনও দৃশ্যমান নেই। যদিও বরাদ্দে প্রতি চারা বাবদ ৬০ টাকা ক্রয় ধরা হয়েছে এবং চুন, সার, আন্তঃপরিচর্যা ও মালচিং বাবদ অর্থ ধরা হলেও তার কোনো কিছুই কৃষককে দেয়া হয়নি।

গত ২৩ নভেম্বর মাঠ দিবসের একটি সভাকে চার দিনের সভা দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এদিকে ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

সান নিউজ/এসএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তাইওয়ান নিয়ে ট্রাম্প-শি ফোনালাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট...

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু

অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বাংলা এক...

নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে?

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাবেক স্প...

নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহ-মোকাদ্দাসের সন্ধানের দাবি ইবিতে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মোকাদ্দাস...

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কুষ্টিয়ায় বিজিবির প্রেস ব্রিফিং

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা