ছবি: সান নিউজ
অপরাধ
গাইবান্ধার চরাঞ্চল

ভূমিদস্যুদের দখলে কাশখড়, বঞ্চিত প্রকৃত মালিকরা

এস. এম. শাহাদৎ হোসেন

গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে নদীর বালুচর এক আশীর্বাদ। নদীকে কেন্দ্র করে জেগে ওঠা চরে শরৎকালে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠে কাশবন। এই কাশখড় অনেকের জীবিকা বদলে দিলেও ভূমিদস্যুদের কারণে প্রকৃত জমির মালিকরা এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া কাশফুলের জন্য আলাদা করে কোনো শ্রম দিতে হয় না। চরের কাশখড় বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এই আয় থেকে তারা পরবর্তী সময়ে চাষাবাদ বা ব্যবসার কাজে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিছু চরে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে প্রকৃত জমির মালিকেরা নিজেদের জমির কাশখড় সংগ্রহ করতে পারছেন না। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা অন্যের জমি দখলে রেখে কাশখড় তুলে বিক্রি করছেন, এমনকি জমিতে চাষাবাদও করছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর বিভিন্ন চরে বেড়ে ওঠা কাশখড় এবং সাঘাটা, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর উপজেলার চরের কাশখড় এখন জেলার বাইরে রাজশাহী ও বরিশালে পাঠানো হচ্ছে।

অনেকে চরের জমির মালিকানা দাবি করছেন, আবার কেউ প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে প্রকৃতির এই দান কাশখড় দখল করে নিচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়ত চরে ভূমিদস্যুদের সঙ্গে প্রকৃত জমির মালিকদের বিরোধ দেখা দিচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা থাকলেও দুর্গম চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত চর এলাকা কাপাসিয়া ইউনিয়নের মিন্টু মিয়ার চরের জমির মালিক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “গত পাঁচ বছর হলো ওই চরে আমাদের ১০০ বিঘা জমি জেগে উঠেছে। তখন থেকেই চরের ভূমিদস্যুরা আমাদের জমি দখলে রেখেছে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাশখড় তারা বিক্রি করে দিচ্ছে। জমির মালিক হয়েও আমরা কিছুই ভোগ করতে পারছি না। এছাড়া ওই জমিতে তরমুজ, বাদাম ও কুমড়া চাষ করে তারা লাখ লাখ টাকা আয় করছে।”

কাপাসিয়ার বাদামের চরের আনছার আলী বলেন, “বালুচরের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া কাশখড় বিক্রি করে এখন অনেকে স্বাবলম্বী। ব্যবসায়ীরা এসব কাশখড় ক্রয় করে রাজশাহী ও বরিশালে পাঠাচ্ছেন। কিন্তু ভূমিদস্যুদের কারণে প্রকৃত মালিকরা এ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

হরিপুর ইউনিয়নের কাশখড় ব্যবসায়ী মাহবুর রহমান বলেন, “কাশখড় ট্রাকে করে রাজশাহী ও বরিশালে পাঠানো হয়। এক ট্রাক কাশখড় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ভাড়া বাবদ খরচ হয় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। প্রতি ট্রাকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হয়।”

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, “বিনাচাষে তিস্তার চরে বেড়ে ওঠা কাশখড় বিক্রি করে এখন অনেকেই ভালো আয় করছেন। কাশখড় যেন চরবাসীর জন্য আশীর্বাদ। প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ বছর আগে তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়া অনেক জমি এখন জেগে উঠেছে। সেই সব চরে কাশফুলসহ নানা ফসলের চাষ হচ্ছে। তবে জমি হারানো পরিবারগুলো তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি সহজে ফিরে পাচ্ছে না। নানা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতায় জমির দখল চলে যাচ্ছে ভূমিদস্যুদের হাতে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবির বলেন, “কাশফুলের খড় চরবাসীর উপার্জনের অন্যতম উৎস। এসব কাশখড় পানের বরজ, ঘরের ছাউনি ও বিনোদন কেন্দ্রের গোলঘরে ব্যবহার করা হয়। কাশফুল দিয়ে ঝাড়ুও তৈরি করা হয়।”

সুন্দরগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, মাঝে মাঝে চরের জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ পাওয়া যায়। দুর্গম চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের জন্য বেশ কঠিন। তারপরও সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে, নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, “চরের জমি নিয়ে অনেক জটিলতা রয়েছে। অনেক জমি খাস খতিয়ানে চলে গেছে। তাছাড়া প্রকৃত মালিকানা নিয়েও বিরোধ আছে। এরপরও অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”

সাননিউজ/আরপি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তরুণ কলাম লেখক ফোরামের আইন বিষয়ক সম্পাদক নোবিপ্রবির রেদোয়ান

‎বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের কেন্দ্রীয় নির্বাহী...

অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির নাম ও ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে হয়রান...

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে য...

আসছে নব্বই দশকের প্রেমের গল্প ‘মিশন ডিডিএলজে’

নব্বই দশকের প্রেম, আবেগ ও নস্টালজিয়াকে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে তুলে ধরত...

হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃ...

সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নিভবে সব আলোকসজ্জা

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দেশজুড়ে নতুন ন...

ঘরের বসেই ফিটনেস: বর্ষায় শরীর চর্চার সহজ উপায়

বর্ষার দিনে ঝুম বৃষ্টি, কর্দমাক্ত রাস্তা কিংবা পিচ্ছিল ফুটপাতের কারণে সকালে হ...

শেরপুরে মাঝরাতে নারীসহ পাসপোর্ট অফিসের এডি আটক

শেরপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. রুস্তম আলীকে এক নারীসহ আ...

বুড়ো বয়সে কর্নেল অলির ‘ভীমরতি’ হয়েছে: ফজলুর রহমান

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে নিয়ে কড়া মন্তব্...

ফেসবুকে সরব গাজী নজরুল, দিলেন ‘ন্যায়ের’ বাণী

সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় আলোচনায় আসা সাতক্ষীর...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা