সারাদেশ

এবার দুঃখ ঘুচবে মনু পারের বাসিন্দাদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার : ভারতের ত্রিপুরার পাহাড়ি উৎপত্তিস্থল থেকে প্রবাহিত খরস্রোতা মনু নদ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রায় ৭৪ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কুশিয়ারা নদীর সাথে মিলেছে। বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সাথে প্রচুর পলিমাটি জমা হয়ে নদীর তলদেশের অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। নদের অনেক স্থানে জেগে উঠেছে চর। শীত মৌসুমে মনুর পানির ক্ষীণধারা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তখন পায়ে হেঁটেই নদটি পাড়ি দেয়া যায়। আবার বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে দ্রুত নদটি ভরে ওঠে দু’তীরের জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মনু নদের পাড় ভাঙা ও বন্যা প্রতিবছরের নিয়মিত ঘটনা।

বর্ষায় মৌলভীবাজারে বন্যা নিয়মিত ঘটনা। নদের পানি বাড়ার সাথে সাথে দু’পারের লাখো মানুষের আতঙ্কও বাড়তে থাকে। আতঙ্কে থাকেন মনু নদের পাড়ের জেলা শহরের বাসিন্দা। খড়স্রোতা নদের প্রায় প্রতিবছরের দুঃখ কষ্ট সহ্য করে যুগ যুগ ধরে দিন পার করছেন তীরের বাসিন্দারা। জেলাবাসী বন্যার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে অনেক আন্দোলন করেছেন। এবার সেই মনু নদকে ঘিরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় হাজার কোটি টাকার এক প্রকল্প নিয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে মৌলভীবাজার শহরে ভয়াবহ বন্যায় অনেক প্রাণহানি ঘটনা ঘটে। বিগত ২০১৮ সালে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

মৌলভীবাজার পাউবো ‘মনু নদের ভাঙন থেকে কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর রক্ষা’ এর প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। ৯৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন লাভ করে। আগামী ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পাউবো জানায়, ৭০টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। নতুন প্রকল্পে আড়াই কিলোমিটার বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হবে, ৭৬৬ মিটার পুরোনো বন্যা নিয়ন্ত্রণ দেয়াল পুনর্বাসন, ৮৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদের ৩৫ স্থানের ১২ কিলোমিটার চর অপসারণ, নদের তীর সংরক্ষণকাজ ইত্যাদি। পাউবোর প্রধান কার্যালয়ের নকশা দপ্তরে ৫৫টি প্যাকেজের নকশা অনুমোদনের জন্য পাউবো জেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে চারটি নকশার অনুমোদন পাওয়া গেছে। তার মধ্যে মৌলভীবাজার শহর অংশের আড়াই কিলোমিটার বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে।

পাউবোর সূত্র আরও জানায়, জমি অধিগ্রহণেরও মাঠপর্যায়ে জরিপ কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এক লাখ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। দেড় লাখ মানুষ সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকিমুক্ত হবে। আর সাড়ে চার লাখ মানুষ বাঁধ ভেঙে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।

মঙ্গলবার পাউবো মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী এম আক্তারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখনও মনু নদের মেজর ড্রেজিং হয়নি। ফলে প্রতিবছর ছয় থেকে আট ইঞ্চি পলিমাটিতে নদের তলদেশ ভরাট হচ্ছে। মনুনদের অন্তত ২০–২৫ ফুট ভরাট হয়ে গেছে। চরগুলো কাটা হলে নদের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে স্রোতা ফিরে আসবে। তখন বর্ষায় পাহাড়ি ঢল দ্রুত নেমে যাবে। এতে বন্যার কবল থেকে তীরবর্তী মানুষ রক্ষা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সান নিউজ/এসকে/কেটি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি...

ঈদুল আজহায় কোটি পশু কোরবানির সম্ভাবনা: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার সারা দেশে প্রায় এক কোটি পশু...

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছ...

কাবা শরিফ ঢেকে রাখা হয় কেন, কিসওয়া কী

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আন...

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কার গায়ে থাকবে

ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি একটি গুরুত্ব বহন করে। কিছু...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা