ছবি-সংগৃহীত
বাণিজ্য

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পোশাক খাতে শঙ্কা 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞার কবলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক ৭ কর্মকর্তা। এবার পোশাক খাতে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃটিশ ক্রেতারা নিষেধাজ্ঞার কারণ দেখিয়ে আমদানি-রপ্তানি খাতে ব্যবহার হওয়া ঋণপত্রে (এলসি) বিশেষ একটি ধারা যুক্ত করে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমন ধারাযুক্ত এলসি পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ধারাটির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: বাণিজ্যমেলা সফল হয়েছে: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

গত রোববার ( ৩০ জানুয়ারি) বিশেষ ধারা সংযুক্ত এলসি পান বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ এসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন।

এলসি’র ধারায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে- জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোর দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ডকুমেন্টারি ক্রেডিট সম্পর্কিত লেনদেনে অক্ষম হতে পারি। নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন ঘটলে আমরা কোনো দায়বদ্ধতা গ্রহণ করবো না এবং উদ্ভূত যে কোনো ক্ষতি ও অর্থ প্রদানে বিলম্ব হলে দায়ী থাকবো না।

বিজিবিএ সভাপতি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, যুক্তরাজ্যের ক্রেতার পক্ষ থেকে যে এলসি পেয়েছি, সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকা বা ইউএন যদি কাউকে স্যাংশন দেয়, সেই ঋণপত্র কেউ যদি গ্রহণ করে এবং পণ্য রপ্তানি করে, তাহলে তার পেমেন্ট দেয়ার জন্য সেই ব্যাংকগুলো বাধ্য না।

ফলে, যার যার ওপর নিষেধাজ্ঞা হবে এবং কেউ যদি এটি লঙ্ঘন করে তাহলে সেই পেমেন্ট দেবে না। এমনকি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কারও সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পেলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

কাজী ইফতেখার হোসেন জানান, এখন উচিত সবাইকে সচেতন করা, যাতে এই খাতটি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে লক্ষ্যে কাজ করা। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোনো ব্যক্তি যদি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে পুরো খাতটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

ধরুন যে ৭ জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তাদেরই পরিবারের কেউ একজন রপ্তানির সঙ্গে জড়িত, এখন এটি যদি তারা জেনে যায় তাহলে তারা পেমেন্ট প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করবে।

কারণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা হয় ডলার দিয়ে এবং ডলারের বাজারটাই হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে দেশের র‌্যাবের বর্তমান এবং সাবেক ৭ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিশেষ এই ধারা যুক্ত হওয়ায় পোশাক খাতের ব্যবসায় কোনো সমস্যা তৈরি হবে না বলে মনে করেন পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা।

যদিও গত ৫ই জানুয়ারি বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। কারণ আমরা কোনো বাজার হারাতে চাই না।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজীম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে পোশাক খাতের জন্য সমস্যা হবে না। তবে ঋণপত্রে যুক্ত হওয়া ধারা নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেন নি। এ ছাড়া কয়েকজন গার্মেন্ট মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি কেউ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সামনের দিনগুলোয় ইইউসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।

তারা আরও জানিয়েছেন, দেশের মোট রপ্তানির ৬৩ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউতে। সেখানে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে ইঙ্গিত করে ঋণপত্রে বিশেষ ধারা যুক্ত করে দেয়াটা আমাদের পোশাক খাতের জন্য বড় অশনি সংকেত।

সান নিউজ/ এইচএন

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

উলিপুরে ২১ দিন ধরে নিখোঁজ ১০ বছরের শিশু লতিফুল

কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিখোঁজের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ১০ বছরের শ...

এয়ারটেলের নতুন পরিচয় ‘সার্কেল’,

মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড এয়ারটেল নতুন পরিচয়ে ‘সার্কেল’ নামে যাত্র...

টঙ্গীবাড়িতে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছ...

বোয়ালমারীতে বাসের নিচে চাপা পড়ে থাকা শিক্ষার্থীর মরদেহ ৩ দিন পর উদ্ধার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের পর খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়...

বোয়ালমারীতে  গণধর্ষণের দায়ে  তিনজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ...

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনে সরকারের কর্মসূচি ঘোষণা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী...

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবে নতুন দুই সদস্য, কাল হতে পারে প্রজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন...

আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ইশরাক

চব্বিশের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পর...

প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে

দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে...

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে যেভাবে

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা