জাতীয়

শ্রমিকদের কল্যাণে আসছে না ‘কল্যাণ ফান্ডের’ টাকা

রাসেল মাহমুদ: পরিবহন শ্রমিকদের ‘কল্যাণে' বিভিন্ন নামে সারাদেশে সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের নামে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। কিন্তু শ্রমিকদের কল্যাণে সে টাকার কত শতাংশ ব্যয় হয় তা নিয়ে ধোঁয়াশার শেষ নেই। শ্রমিকদের দাবি, তাদের কল্যাণের নামে সংগঠন করলেও এতে ফুলে-ফেঁপে বড়লোক হয় শুধু নেতারাই। কল্যাণ ফান্ডের টাকা তাদের কোনো কল্যাণেই আসছে না। গত কয়েক বছরে এই খাতে প্রায় শত কোটি টাকা জমা হয়েছে।

জানা গেছে, পরিবহন খাতের সাথে সারাদেশে ৭০ লাখের বেশি শ্রমিক জড়িত রয়েছেন। এসব শ্রমিকদের জন্য সারাদেশে রেজিস্টার্ড সংগঠন রয়েছে ১৪০টা। এর বাইরে আরও ৭-৮টা সংগঠন রয়েছে যেগুলো রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের দেয়া তথ্যমতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন অন্তর্ভূক্ত সংগঠন ২৫০টি। এসব সংগঠনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, করোনা চলাকালীন গত ৯ মাসেই চাঁদা আদায় হয়েছে ১৩৫০ কোটি টাকা। এই টাকা থেকে ৩২০ কোটি টাকা পেয়েছে শ্রমিক ফেডারেশন। আর এক হাজার ৩০ কোটি গেছে অন্তর্ভূক্ত বেসিক ইউনিয়নে। শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ ফান্ড থাকলেও তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত শ্রমিকরা।

এদিকে, মালিক সমিতি বা পরিবহন মালিকের পক্ষ থেকে শ্রমিকের নিয়োগপত্র না দেয়া, মাসিক বেতন, বেতনের প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় সরকারি অনুদান থেকেও বঞ্চিত পরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলছেন, সরকার থেকে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে কিছু অনুদান আসলেও তা শ্রমিকদের হাত পর্যন্ত পৌঁছায় না।

দেশের পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সারা দেশেই সংগঠনটির কার্যক্রম রয়েছে। সারাদেশ থেকেই সংগঠনটির নামে বড় অংকের চাঁদা আদায় করা হয়। শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সংগঠনটির শতকোটি টাকার ‘শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড’ রয়েছে। তবে চলমান লকডাউনে বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের কোনো কাজেই আসেনি এই টাকা।

শ্রমিকরা জানান, গত বছরের লকডাউনে মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন আমাদের খোঁজ নিলেও এ বছর কেউ খোঁজ নেয়নি। ফলে চলমান লকডাউনে তারা আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন।

বলাকা পরিবহনের চালক মো. ইউনুস আলী সাননিউজকে বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিদিনই চাঁদা আদায় হয়। কিন্তু আমাদের কোনো কল্যাণে সে টাকা ব্যয় হয় না। এই যে লকডাউন চলছে, আমরা খেয়ে আছি কি না খেয়ে আছি তার খোঁজ কেউ নিচ্ছে না।

আলম নামের একজন পরিবহন শ্রমিক বলেন, আমাদের নেতাদের বাড়ি-গাড়ি সবই হচ্ছে। আর আমরা লকডাউনে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছি। আমাদের জন্য যে কল্যাণ ফান্ড করা হয়েছে তাহলে তার কাজ কী? প্রতিদিন কেনই বা এতো টাকা চাঁদা তোলা হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সংগঠনটির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে প্রায় ১০০ কোটি টাকা জমা থাকলেও বিভিন্ন কারণে এর সুফল পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। এর বড় কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নিয়োগপত্র না থাকায় কল্যাণ ফান্ডে অর্থ থাকলেও শ্রমিকদের দেয়া যাচ্ছে না।

সাননিউজ/আরএম/টিএস/

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

চবি হিসাববিজ্ঞান সমিতির রজত জয়ন্তী ২০২৭ উদযাপনে ঢাকায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হিসাববিজ্ঞান সমিতির ২৫ বছরের গৌরবময় পথচলা উপলক্...

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী টাইগার অধিনায়ক লিটন

গত কিছুদিন ধরে ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের চিরচেনা ছন্দে নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল...

ঢাবি পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ অ্যালাম...

ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ

মরমি সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরো...

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা মন...

বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু

ভোলার রাজাপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা...

সাত খুন, আবরার ও সিনহা হত্যা মামলার আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ

দেশের আলোচিত তিনটি হত্যাকাণ্ডের মামলা নারায়ণগঞ্জের...

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও জন আস্থা: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংব...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা