জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমার টুইটার যেটাকে এখন এক্স বলা হয়, এই অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নিয়ে অত্যন্ত বাজে, কুরুচিপূর্ণ, অপমানজননক কিছু বক্তব্য দিয়ে দিছে। যারা এ কাজ করেছে, তারা ডাকাত, কাপুরুষ। জামায়াত মায়েদের সম্মান উঁচু করে তুলে ধরতে চায়। কিন্তু ওরা বলে আমার মায়ের কাপড় খুলে নেবে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সবার ঠিকানা ছিলে মায়ের গর্ভে, মায়ের বুকে। সেই মায়ের অসম্মান আমরা বরদাশত করবো না।’
রোববার দুপুরে শেরপুর শহরের দারোগালি মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। তিনি শেরপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
কোন দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘আগামীতে যদি তারা কোন কায়দায় এ জাতির নেতৃত্বে চলে আসে তাহলে এ জাতিকে তারা শান্তি দেবে না। আবার খুনের রাজনীতি, ছোপ ছোপ রক্ত, কারি কারি লাশ পাবে বাংলাদেশ।’
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কর্মীরা প্রতিশোধ নিয়েছে এ কথা কেউ বলতে পারবে না। বিগত ১৭ বছর আমাদের সহকর্মীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কিন্তু আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম- সাবধান, কারো অর্থের দিকে হাত বাড়াবে না। এখানে-ওখানে চাঁদাবাজি দখল-বাণিজ্য আমাদের কাজ নয়। আপনারা সাক্ষী- কেউ আমাদের চাঁদাবাজ, দখলবাজ বলতে পারবে না।
ধর্ম বর্ণের ভেদাভেদ করবো না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশ মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী মানুষের দেশ। এই চার ধর্মের মানুষকে একত্র করে ফুলের বাগান সাজাতে চাই। একজাতের গাছ দিয়ে বাগান হয় না। ভিন্ন ভিন্ন জাতের গাছ লাগে।
নিহত জামায়াত নেতার কবর জিয়ারত
জনসভায় যোগদানের আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার গোপালখিলা এলাকায় নিহত রেজাউল করিমের বাড়িতে যান জামায়াতের আমির। কবর জিয়ারতের পাশাপাশি তিনি রেজাউলের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন শফিকুর রহমান।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রেজাউলের খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সব ভিডিও ফুটেজ সবার কাছে চলে গেছে। অথচ নৃশংস হত্যার পর একটা আসামিকেও ধরা হলো না।
স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ইউএনও, ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটা কোন সমাধান না। আমরা চাই, দ্রুত এখানে প্রজাতন্ত্রের এমন দায়িত্বশীল জিম্মাদার লোককে ইউএনও ও ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যারা কোন দলবাজি করবে না।
নিহত রেজাউলের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। এখন থেকে আল্লাহই হবে এ পরিবারের অভিভাবক।
জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছামিউল হক ফারুকী, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলসহ দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে শ্রীবরদীর গোপালখিলা খেলার মাঠে অবতরণ করেন শফিকুর রহমান। দুপুর সাড়ে ১২টায় শেরপুরে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন তিনি। পরে তিনি জামালপুরে জনসভায় অংশ নেন।
বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের অপমান করতে চাই না
জামালপুর শহরের সিংহজানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না। আমরা যুবকদের হাততে শক্তিশালী করতে চাই। যাতে যুবকেরা দেশ গড়ার একজন কারিগর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং গর্বের সঙ্গে পরিচয় দিতে পারে-আমিই বাংলাদেশ। যুবকেরা নিজেদের কাজের অধিকারের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছিল, বেকার ভাতা খাওয়ার জন্য নয়।’
শফিকুর রহমান বলেন, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে জামায়াতের বিজয় হবে। আমরা ২৪ এর লাশের সঙ্গে বেঈমানি করতে পারবো না।
কোনো কোনো জায়গায় মায়েরা ভোট চাইতে গেলে তাদের অপমান করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের মায়েদের কি ভোট চাওয়ার অধিকার নাই? যারা মায়েদের অপমান করে, তাদের গায়ে হাত তুলে-তারা কোন প্রজাতির, সেটি আমরা বুঝতে পারি না।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব জায়গায় “হ্যাঁ” ভোটের কথা বলতেছি। কিন্তু কিছু দল তাঁরা “হ্যাঁ” ভোটের ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলতে চান না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে সংস্কারে “হ্যাঁ” ভোট এবং গণভোটে “হ্যাঁ” বলছি, আপনারা ‘হ্যাঁ’ ও “না” ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেন?’
জনসভায় জামালপুর-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের প্রার্থী মো. সামিউল হক (ফারুকী), জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের মুহাম্মদ নাজমুল হক (সাঈদী), জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান (আজাদী), ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ প্রমুখ।
সান নিউজ/আরএ