হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি রণতরী মোতায়েনের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাতে সাড়া দেয়নি কোনো দেশই। সবচেয়ে ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ ব্রিটেন সরাসরি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ অন্য মিত্ররাও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ন্যাটো খুব খারাপ ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ব্রিটেনে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর সবচেয়ে বড় পথ হলো ইরান যুদ্ধে উস্কানি না দেওয়া।
তীব্র যুদ্ধে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে গত শনিবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, তিনি আশা করছেন– চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও অন্যরা এ অঞ্চলে জাহাজ পাঠাবে, যাতে হরমুজ প্রণালিকে হুমকিমুক্ত করা যায়। গত রোববার মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসিকে বলেন, ট্রাম্প যেসব দেশের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে তিনি ‘আলোচনা’ করেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে চীন ‘একটি গঠনমূলক অংশীদার’ হবে। তবে গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো দেশই ট্রাম্পের পক্ষে সাড়া দেয়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের জাহাজ চলাচল করছে। ফলে চীনের ট্রাম্পের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই উঠছে না। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের দায়িত্ব সব পক্ষের; উত্তেজনা হ্রাসের জন্য চীন ‘সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে’।
সোমবার ছিল যুদ্ধের ১৭তম দিন। এদিন ভোরেই তেহরানের ওপর ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরানও ইসরায়েলের তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালায়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আলজাজিরা জানায়, ড্রোন হামলায় দুবাই বিমানবন্দরের কাছে আগুন লেগে যায়। হামলা হয়েছে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কেও। এতে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ড্রোন হামলার পর ফুজাইরাহ শিল্প এলাকায়ও আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।
ইরাকের জুরফ আল-সাখার এলাকায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের সদরদপ্তরে বিমান হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও বালাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, গতকাল তারা ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে। হামলা হয়েছে কাতাদের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৮৬-তে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০০টির বেশি শিশু। আহত ২ হাজার ১৪১ জন। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গতকাল হিজবুল্লাহ হামলায় উত্তর ইসরায়েলে অন্তত ৬ জন আহত হন। ছবিতে একটি বাড়ি আগুনে পুড়তে দেখা গেছে। স্থল অভিযান চলাকালে দক্ষিণ লেবাননে গতকাল আরেক ইসলারায়েলি সেনা আহত হয়েছেন।
সান নিইজ/আরএ