সারাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী স্পিডবোটের যাত্রী পরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের টিএ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’-এর বিধি ২৭ অনুযায়ী এই নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন চার্ট অনুযায়ী, শান্ত নৌপথে প্রথম ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা এবং অশান্ত নৌপথে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ১০ কিলোমিটারে জনপ্রতি ভাড়া ১০ টাকা ৮০ পয়সা এবং অবশিষ্ট দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ৮ টাকা ৬৪ পয়সা হারে ভাড়া দিতে হবে যাত্রীদের।
পটুয়াখালীর বিভিন্ন নৌরুটের ভাড়ার চিত্র
প্রজ্ঞাপনে পটুয়াখালী জেলার অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর ভাড়াও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: গলাচিপা-রাঙ্গাবালী: ৩৮০ টাকা, পানপট্টি-চরমন্ডল: ২৭০ টাকা, পানপট্টি-চরবিশ্বাস: ২৬৫ টাকা, পানপট্টি-চরমোন্তাজ: ২৪০ টাকা, পানপট্টি-পায়রা বন্দর: ২৩০ টাকা, গলাচিপা-ফেলাবুনিয়া: ৩২৫ টাকা, পানপট্টি-আমড়াগাছিয়া: ২০৫ টাকা, বোয়ালিয়া ফ্লুইস গেট-কোরালিয়া: ১৫০ টাকা, পানপট্টি-বাহের চর: ১৫০ টাকা, পানপট্টি-কোরালিয়া: ১৪০ টাকা, চরকাজল-বন্যাতলী: ১১০ টাকা এবং চরমন্ডল-গৈনখালী: ১১০ টাকা।
নতুন এই ভাড়া কার্যকর হলে উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় কিছুটা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভাড়া নির্ধারণের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, সরকারিভাবে ভাড়া নির্ধারিত না থাকায় এতদিন অনেক রুটে খেয়ালখুশিমতো ভাড়া আদায় করা হতো। এখন থেকে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকবে না।
পটুয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলাগুলোর বাসিন্দারা জানান, স্পিডবোট তাদের জরুরি যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার এবং অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই নতুন ভাড়া কার্যকর করতে হবে এবং নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাননিউজ/আরএ