রাজনীতি

দিস ইজ দ্যা রিয়েলিটি অফ টাইম : ডা. শফিকুর রহমান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখানে পাল্লা হচ্ছে ১১ দলের প্রতীক, পাল্লা হচ্ছে ইনসাফের প্রতীক। অতীতের সরকারগুলা পাল্লা সহ্য করতে পারে নাই। এইজন্যে পাল্লাকে তারা গুম করে ফেলেছিল। পাল্লা আয়না ঘর থেকে মুক্তি পেয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাল্লা যদি বিজয়ী হয় তাহলে সমাজে ন্যায় বিচার কায়েম হবে। আর ন্যায় বিচার যদি কায়েম হয় তাহল বিড়ালের অসুবিধা হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ খাবারের সময় গরম ভাত চাই কিন্তু গরম ভাতে বিলাই বেজার। ওর যে মুখ পড়ে এই জন্য। ওই বিড়াল খাসলোতের যারা, যারা সমাজে ন্যায় বিচার দেখতে চাই না বরঞ্চ বিচারকে, বিচার রঙ্গনকে নিজের পকেটে নিয়ে চলতে চাই তারা পাল্লাকে গায়েব করে দিয়েছিল। আল্লাহ তায়ালার সেই গুম অবস্থা থেকে, আয়না ঘর থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, এবার বাংলাদেশের মানুষের কন্ঠে কথা একটায়, দফাই দফাই অনেকদলকে বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আপনারা যা করেছেন আমরা তা দেখেছি। কেউ কেউ এখন যা করছেন তাও আমরা দেখছি। সুতরাং এখন আমরা ন্যয় ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার সঙ্গী হতে চাই।

জামায়াতের আমির বলেন, যুবকরা ইতিমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। পাঁচ, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে। তারা বলেছে- আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা ন্যায় ইনসাফের পক্ষেই থাকতে চাই। বিভিন্ন নারীদেরকে উস্কানি দেয়া হয় বলে যে পাল্লার বিজয় হলে আপনাদের কেমন লাগবে। আলহামদুলিল্লাহ ডেসপারেটলি মায়েরা এখন বলতেছেন ভালো লাগবে। আপনি কারে সমর্থন করেন? কয় পাল্লারে সমর্থন করি। পাল্লা সমর্থন করলে তো আপনি এই পোশাক পরতে পারবেন না। কয় পরবো না। তখন পোশাক যেমন হাওয়া দরকার তেমন পরবো। আমি চাই দেশটা ঠিক হোক। জিজ্ঞেস করে জামাতের কোন জিনিস তোমার ভালো লাগে? কয় পুরা জামায়াতকেই আমার ভালো লাগে। দিস ইজ দ্যা রিয়েলিটি অফ টাইম।

দেশবাসী বিশেষ করে যুবসমাজ এবং মায়ের জাতি তারা আর বস্তা পচা রাজনীতি দেখতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয় আপনারা কেন পাল্লায় ভোট দিবেন। বলে যে, পাল্লায় ভোট দেবো আমরা নিরাপদ থাকতে চাই এইজন্যে। কই অন্য কেউ আসলে নিরাপদ থাকবেন না। এখনই আমরা নিরাপদ নয়, ক্ষমতায় আসলে তো সব শেষ করে দেবে। এই সংগঠনের লোকেরা (জামায়াত) এবং তাদের সঙ্গী যারা আছে তারা এই কাজ করবে না এটা আমাদের বিশ্বাস। মায়েরা আপনাদের বিশ্বাসের মূল্য আমরা আমাদের চূড়ান্ত সেক্রিফাইসের মাধ্যমে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।

নারীদের সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, মায়েদের তুলনা শুধু মায়েরা। আর কারো সাথে তাদের তুলনা হবে না। এই মায়েদের জাতিকে যারা সম্মান দিতে জানে না এরা কপাল পোড়া। সম্মান দিতে যারাই জানবে তারাই ভাগ্যবান। তারাই বীরপুরুষ। আমরা আমাদেরকে ঘরে, যাতায়াতে, কর্মস্থলে তিন জায়গায় পরম সম্মানের সাথে দুটি জিনিস নিশ্চিত করবো ইনশাল্লাহ। নাম্বার ওয়ান তাদের মর্যাদা, নাম্বার টু তাদের নিরাপত্তা।

তিনি আরও বলেন, বড় শহরগুলোতে তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে। মারা ঘর থেকে বের হলে সফরে কোন জায়গায় তাদের জন্য নামাজের এবং ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকে না। আমরা কথা দিচ্ছি সবগুলা করা হবে ইনশাল্লাহ।। যে মায়েরা কাজ করবেন সন্তান যদি তাদের দুগ্ধ পোষ্য হয় তাহলে অবশ্যই কর্মস্থলে তাদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে। এবং যে সমস্ত ইন্ডাস্ট্রি, ফ্যাক্টারির কাজে নারী ম্যানপাওয়ার আছে সেখানে বেবি কেয়ারও চালু করতে হবে। তারা যাতে কমফোর্ট নিয়ে স্বস্তির সাথে তারা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন। অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে কথা ছড়ায় জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সব মহিলাকে রুমের ভেতর আটকে রাখবে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ভাই অতো টাকা নাই, অতো তালা কেনা আমাদের। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের ময়দানে মাদের সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন যোদ্ধা হিসাবে। সকল কর্মকান্ডে তারা অংশগ্রহণ করেছেন। আমরা নিশ্চিত করছি ঘর থেকে শুরু করে যুদ্ধের ময়দান পর্যন্ত যারা পছন্দ করবেন যারা যেতে চাইবেন তাদের জন্য দোয়ার খুলে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ। এবং সেখানে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সম্মান মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে ধোকাবাজদের জ্বালাতন থেকে তারা মুক্তি পাবেন ইনশাল্লাহ।

যুবসমাজের উদ্দেশ্য জামায়াতের আমির বলেন, যুব সমাজ ভাইবোনেরা আমরা কোন বেকার ভাতা তোমাদেরকে দিতে পারবো না, দিব না। বেকার ভাতা দিয়ে বেকারের মহাসমুদ্র তৈরি করতে চায়না। বরঞ্চ প্রত্যেকটা এক যুবক-যুবতীদের সম্মানের মর্যাদার উপযুক্ত কাজ তুলে দিতে চাই। যাতে গর্বের সাথে তারা বলতে পারে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশী। আমি আমার যোগ্যতা দিয়ে আমার দেশকে সেবা করি। এই কথা যেন তারা বলতে পারে। ইনশাল্লাহ সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে। আমাদের শিক্ষা হবে কর্মমুখী এবং আমাদের শিক্ষা হবে মানবিক শিক্ষা। মানুষকে যাতে সবাই ধারণ করে এবং সম্মান করে সেই শিক্ষা আমরা দিব।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে জনসভায় জাতীয় কু‌ষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির আমজা, কু‌ষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কু‌ষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হোসেন, গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কে‌ন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবগাতুল্লাহ শিবগা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়াদ্দারসহ জামায়াত জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন রাখেন।

সান নিউজ/আরএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ...

সংবিধান সংস্কার আদৌ হবে কি?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্ততি!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মেরিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তর...

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্ততি!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মেরিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তর...

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত...

সংবিধান সংস্কার আদৌ হবে কি?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে...

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ...

শক্ত অবস্থানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখনো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব অক্ষত আছে। দেশট...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা