শনিবার সকালে হঠাৎ করেই স্ব-স্ত্রীক মাদারীপুরে আসেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি শিবচর উপজেলার কয়েকটি নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করে মাদারীপুর হর্টিকালচারে আসেন। সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে তিনি মাদারীপুর সার্কিট হাউজে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। আইন উপদেষ্টা মাদারীপুরে থাকা অবস্থায় তার সাথে ছিলেন জেলার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। আইন উপদেষ্টার সফর সম্পর্কে জানাতে চাইলে, আইন উপদেষ্টা কেন মাদারীপুর এসেছে এটা উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করুন এমনই পরামর্শ পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের। উপদেষ্টা ঝটিকা সফরে এসে ঘুরলেন, খেলেন আর চলে গেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতূহল তেরি হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান জানান, আইন উপদেষ্টা মাদারীপুরে আসার বিষয়ে কোন কর্মসূচি জেলা প্রশাসন পায়নি। তিনি হঠাৎ করে স্ব-স্ত্রীক মাদারীপুরে এসেছেন। তাই তার এই সফরকে ব্যক্তিগত সফর হিসাবে দেখছে জেলা প্রশাসন। আইন উপদেষ্টা ঢাকা থেকে শিবচরে আসেন। সেখানে কয়েকটি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করে মাদারীপুরের মস্তফাপুরে হর্টিকালচারে আসেন। এখানে তিনি হর্টিকালচার ঘুরে দেখেন এবং চা পান ও গল্প করে কিছু সময় কাটান। এরপর মাদারীপুর সার্কিট হাউজে এসে তিনি দুপুরের খাবার খান। সেসময় মাদারীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি সেখানে কর্মকর্তাদের সাথে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেন। নির্বাচন বা অন্য কোন সরকারি বিষয়ে কোন কথা হয় নি।
আইন উপদেষ্টা কেন মাদারীপুর এসেছে প্রশ্ন করতে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, এটা উপদেষ্টাকে জিজ্ঞেস করুন তিনি কেন এসেছেন। উপদেষ্টার সাথে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উপদেষ্টা মহোদয় সাংবাদিকদের বক্তব্য দিয়েছে সেটা দেখে নিন। আরও প্রশ্ন করলে তিনি একই উত্তর দেন।
মাদারীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, এখানেতো তার কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। তাহলে এখানে তার ব্যক্তিগত সফরের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। যদি সে ভাল কাজের জন্য আসেন তাহলে ভাল কথা আর যদি কোন ষড়যন্ত্র হয় তাহলে আমরা তা রুখে দিব।
মাদারীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আনিচুর রহমান খোকন তালুকদার বলেন, আমি জানিনা সে কেন মাদারীপুরে এসেছে। সে সরকারি সফরে এসেছে নাকি ব্যক্তিগত সফরে এসেছে তাও জানিনা। তাই এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না।
আইন উপদেষ্টার মাদারীপুর সফরকে পজেটিভ দেখছে মাদারীপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন উপদেষ্টা একজন অবিভাবক। তিনি তার মতো করে সফর করতেই পারেন। সেটা হোক সরকারি বা ব্যক্তিগত। এ বিষয়ে খারাব কিছু ভাবার সুযোগ নেই। তবে জেলা প্রশাসককে জানিয়েই তার সফর করা উচিৎ। তা না হলে জেলা প্রশাসকের কোন দায় থাকেনা।
আইন উপদেষ্টার মাদারীপুর সফর একটি ধুয়াশার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলায় চলছে আলোচনা সমালোচনা।
সান নিউজ/আরএ