আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা-১ আসনে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি-সমর্থিত জোট প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে নৌপথে ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছালে হাজারো নেতাকর্মী ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে বরণ করে নেন। পরে খোলা জিপে চড়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার নির্বাচনী প্রচারণা। এতে ভোলার রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে ওঠে।
খেয়াঘাট থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পার্থ। এ সময় তিনি জনগণের কাছে ‘গরুগাড়ি’ প্রতীকে ভোট চান এবং ভোলার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে রাজনীতিতে শান্তি ও গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। সমাজে গ্রহণযোগ্য ও সৎ মানুষদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তার জীবন যখন অনিশ্চয়তায় ভরপুর ছিল, তখন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপির আস্থায় ভোলার দায়িত্ব পান এবং বিএনপি ও বিজেপির নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পার্থ বলেন, সে সময় বিরোধী দলে থেকেও তিনি সংসদে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বর্তমানে ভোলার রাজনীতিতে সহিংসতা পরিহার করে ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমানের আস্থায় ভোলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ্য করে পার্থ বলেন, ভোলায় আর কোনো মারামারি ও হানাহানি চলবে না। ভোলার মাটি হবে ভোলাবাসীর ঘাঁটি।
তিনি বলেন, ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানানো সম্ভব না হলেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুটপাট ও মাদকমুক্ত একটি মানবিক ভোলা গড়ে তোলা হবে। নিজের কোনো আত্মীয়কেও অনিয়মে জড়াতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তাই সবাই মিলে আসুন আমরা ভোলাটাকে গড়ি। আমরা কারো সাথে অন্যায় করতে চাই না। কারো অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে চাই না।
আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে সুন্দর মানবিক ভোলা গড়তে চাই। যেখানে চাঁদাবাজি হবে না,যেখানে লুট হবেনা, যেখানে টেন্ডারবাজী হবে না,যেখানে সালিশ পয়সা খাওয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, আমি হয়তো ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানাতে পারবোনা। তবে আমার কোন আত্মীয় টেন্ডারবাজী করবেনা।আমাকে আল্লাহ অনেক কিছু দিছে। এবার যদি সুযোগ পাই ভোলার মানুষের জন্য কাজ করে যাবো।
আন্দালিব রহমান আরো বলেন, আগামীর ভোলা হবে সবার। যেখানে দলমত নির্বিশেষে নতুন করে ভোলাকে গড়ে তুলবো।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার থেকে ভালো কোন প্রার্থী পেলে আমি গিয়ে তাকে আমার ভোট দিয়ে আসবো।
আর আপনার যদি মনে করে ভোলার উন্নয়নে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ যোগ্যপ্রার্থী তাহলে আগামী নির্বাচনে সবাই গরুর গাড়ী মার্কায় ভোট দিবেন।
তিনি আরো বলেন, নমিনেশন আগে বিএনপির সভাপতি গোলাব নবী আলমগীর চাচাকে বিএনপি থেকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিলো। তিনি গত ১৭ বছর অনেক ত্যাগ স্কীকার করে কাজ করে গেছেন। বিএনপির অনেক ত্যাগ আছে ফ্যাসিস্ট আমলের সময়।
আমাদের সবার দায়িত্ব সবাইকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করার। কোন ভাবেই বিবেদ থাকা যাবেনা। বিএনপি -বিজেপি ভাই ভাই। ঐক্য ছাড়া উপায় নাই। আজ থেকে এই ভোলার মুরব্বি গোলাম নবী আলমগীর চাচা। আমি আসার আগেও তার সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করে আসছি।তাকে সম্মান দিলে সেই সম্মান কোনদিন ছোট হয়না। আমাদের সামনে সবার একটাই কাজ ভেদাভেদ বুলে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে আমাকে বিজয় করলে নিশ্চিতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। তাই ভোলা আমার বাপের বাড়ি মার্কা আমার গরুর গাড়ি।
তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। ভোলার উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই জেলাকে আধুনিকভাবে সাজানো হবে।
জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার ভোলায় এসে পার্থ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ, সংবর্ধনা ও প্রচারণায় অংশ নেন। এর আগে দুপুরের দিকে তাকে ঘিরে ভোলা-১ আসনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানান তারা।
ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে ভোলার খেয়াঘাটে অবতরণ করেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
সান নিউজ/আরএ