আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা—স্থানীয় সরকার ও যুব–ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম—সরকার থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে কে কবে পদত্যাগ করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ছাত্র উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দুই উপদেষ্টা। এর অংশ হিসেবে ৪ বা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মাহফুজ আলম পদত্যাগ করতে পারেন। তাঁর দুই দিন আগে বা পরে পদত্যাগ করতে পারেন আসিফ মাহমুদ।
গত ৯ নভেম্বর কুমিল্লার বদলে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হন আসিফ মাহমুদ। সেদিন তিনি জানান, ঢাকা থেকেই নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় নাম স্থানান্তরের মূল লক্ষ্য হলো নিজের ভোট নিশ্চিত করা। নির্বাচনে কোন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এবং পদত্যাগ করেই তিনি ভোটে অংশ নেবেন।
অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে বলেন, তিনি দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন এবং কবে পদত্যাগ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, পদত্যাগের পর আসিফ মাহমুদ কোন দলে যোগ দিতে পারেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আপাতত তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে চান। তবে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা চলছে। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি পূর্বেই সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। দলটির সঙ্গে সম্পর্কের অমিল থাকায় বিএনপি বা গণঅধিকার পরিষদে তাঁর যোগদানের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, তরুণ রাজনীতিবিদদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টা করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। কিন্তু এনসিপির সহযোগিতা না পাওয়ায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘মাইনাস’ করার অভিযোগ উঠলে দুই পক্ষের দূরত্ব আরও বাড়ে। সম্প্রতি বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপি এখনো ঢাকা-১০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, ফলে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এই আসনেই তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, দলীয় কোনো বৈঠকে এ ধরনের আলোচনা হয়নি।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, আসিফ মাহমুদ তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আন্দোলনে ছিলেন। তাই আলোচনা স্বাভাবিক। তিনি যোগ দিতে চাইলে তাঁকে মূল্যায়ন করা হবে।
অন্যদিকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, পদত্যাগের পর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। লক্ষ্মীপুর–১ আসনে শাপলাকলি প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। দলীয় সূত্র বলছে, তিনি এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন এবং উপদেষ্টা হিসেবেও তাঁকে যুক্ত করা হতে পারে।
সাননিউজ/এও