বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের হাতে নেই। মায়ের সংকটজনক শারীরিক অবস্থার মধ্যেও রাজনৈতিক বাস্তবতা তাকে দেশে ফেরার বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। লন্ডন থেকে আজ শনিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে এ বক্তব্য দেন তিনি।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন। মাকে দেখতে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে আসা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, মানবিক দিক থেকে এই সময়ে মায়ের পাশে থাকার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে তারও। কিন্তু দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এমন কিছু রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং শর্ত জড়িত রয়েছে—যা তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান জানান, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। এ বিষয়ে তার পরিবারও আশাবাদী বলে জানান তিনি।
তিনি আরও লেখেন, গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণ যেভাবে দোয়া করছে, তা তাদের পরিবার গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সকল ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তারেক রহমান উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্যে তিনি চিকিৎসায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবা এবং পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসা ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান শেষাংশে খালেদা জিয়ার প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থনের জন্য জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য সকলকে দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
সাননিউজ/এও