ছবি: সংগৃহীত
ফিচার

গাইবান্ধায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ধান, ভুট্টা, বাদাম, আলু ও টমেটোর মতো প্রথাগত চাষাবাদ ছেড়ে বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকছেন গাইবান্ধার কৃষকরা। অর্থকরী ফসল সূর্যমুখী চাষে উৎসাহী হচ্ছেন তারা। বাড়ছে সূর্যমুখী চাষ। গাইবান্ধায় কৃষকের মাঠজুড়ে এখন কেবল হলুদের সমারোহ।

আরও পড়ুন: অস্তিত্ব সংকটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি

সবুজ গাছের ডগায় হলুদ সূর্যমুখী ফুল দোল খাচ্ছে বাতাসে। মাঠজুড়ে সূর্যমুখীর হলদে আভায় বিমোহিত দর্শনার্থীরাও। এ সূর্যমুখী ফুলেই রয়েছে বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা। জেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে সূর্যমুখীর চাষ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধায় সূর্যমুখীর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় এটা খুব লাভজনক।

চলতি বছর কৃষি পুনর্বাসন প্রণোদনার আওতায় জেলার ৫৬০ জন কৃষককে বিনামূল্যে দুই কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ এবং ২৫ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়। জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৭৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: বরগুনায় কার্গোর ধাক্কায় ভেঙে গেল ব্রিজ

এ থেকে ১৬০ মেট্রিকটন সূর্যমুখী তেলের বীজ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। গত বছর গাইবান্ধায় ৭৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

উৎপাদন সুবিধা ও বাজারদর বিবেচনায় অনেক কৃষকই সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সূর্যমুখী বাগানগুলোতে দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে ভিড় করছেন। যদিও এসব দর্শনার্থীদের জন্য কিছুটা বিড়ম্বনায়ও পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। অনেক দর্শনার্থী বাগান থেকে ফুল ছিঁড়ে ফেলেন। এতে বাগানে পাহারা বসাতে হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা এলাকার কৃষক মো. মনসুর আলী জানান, তিনি চলতি বছর ৩ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেন। আগে এসব জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ করতেন। এবারই প্রথম কৃষি বিভাগের সহায়তায় সূর্যমুখী ফুল চাষ করেন। ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ গাছে ফুল ফুটেছে।

আরও পড়ুন: নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

কৃষি বিভাগের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবেন বীজ না তেল তৈরির। যেটি বিক্রয় করলে লাভবান হবেন, সেটি করবেন। ফলন ভালো হলে প্রতিবছরই সূর্যমুখী ফুল চাষ করবেন বলে জানান তিনি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল সরকার বলেন, ডিসেম্বর মাস থেকে কৃষকরা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের বীজ রোপণ শুরু করেন। রোপণের ২ মাস পর গাছে ফুল ফুটে। ফোটার পর পরিপক্ব হতে সময় লাগে আরও অন্তত ১৫ দিন। আগামী এপ্রিল মাস থেকেই কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে শুরু করবেন।

আরও পড়ুন: আগুনে পুড়ে ছাই ২০০ দোকান

কৃষিবিদরা বলেন, বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে চাষের এলাকা বাড়ালেও চাষিদের লাভ দেবে না সূর্যমুখী। ফলে নিজেদের সাংসারিক প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ পাবেন না বেশিরভাগ চাষিই। সামগ্রিকভাবে তেল বিপণনের ব্যবস্থা করা না গেলে এ বিকল্প চাষ অর্থকরী হবে না বলেই মনে করছেন তারা।

কৃষিবিদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ভাল মানের বীজ ও বিপণনের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকদের অনেকেই আরও বেশি পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করতে উৎসাহী হবেন। শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৩ ঘণ্টায় সাড়ে ১২ হাজার টিকিট বিক্রি

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, কৃষকদের সূর্যমুখী ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ প্রদান করা হয়েছে। বীজ রোপণের পর থেকে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।

আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ফলনও ভালো হবে। বীজ আহরণ ও তেল উৎপাদনের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সান নিউজ/এনজে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

আজ পহেলা বৈশাখ, স্বাগত ১৪৩১ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ পহেলা বৈশাখ,...

বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতির চেতনাবিরোধী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী...

আর্মড গার্ড থাকলে এমন ঘটত না

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোমালিয়ান জলদস্যুরা আমাদের নাবিকদের সুস্...

মুক্তিপণের অর্থ পেল জলদস্যুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ&rsq...

বর্ষবরণে রাস্তায় নিরাপত্তার আঁচ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোর থেকে রমনার বটমূল থেকে গান, কবিতায় বরণ...

আন্তর্জাতিক ঘটনার প্রভাব বাজারে পড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বল...

চলতি সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ২ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২ মে থেকে...

ছুটি শেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর চালু

মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:...

নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিলনমেলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে...

টেকসই ড্রাইভিংয়ে বিওয়াইডি’র নতুন মাইলফলক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের শীর্ষ স...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা