অপরাধ

গামছা পার্টি হাতে দেড় বছরে খুন ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : গভীররাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পরিবহন না পেয়ে যারা বিড়ম্বনার শিকার হন তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন একশ্রেণির সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। যাত্রী হিসেবে তুলে ছিনিয়ে নেওয়া হয় সর্বস্ব। বাধা দিলেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা। গত দেড় বছরে গামছা পার্টি কেড়ে নিয়েছে অন্তত ১৬ জনের প্রাণ। যাদের মধ্যে রয়েছেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও।

পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন এ পার্টির ৬ জন। তারপরেও রাশ টেনে ধরা যাচ্ছে না রাতের ঢাকার ভয়ংকর এ গামছা পার্টির।

তানিয়া আক্তার চার সন্তান নিয়ে রাজধানীর তুরাগের ধউর এলাকার ১০ ফিট বাই ৮ ফিটের এ ছোট্ট ঘরটিতে মাসিক ৩ হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন। ৫ মাসের বকেয়া ভাড়ার খড়গ তার মাথার ওপর। বাড়িওয়ালা খুলে নিয়ে গেছেন ফ্যান, টিভিসহ অন্যান জিনিসপত্র। তানিয়ার সংসারে একসময় সুখ ছিল, ঝালমুড়ি বিক্রেতা স্বামী আজাদ পাটোয়ারি ভালোই রোজগার করতেন। কিন্তু গামছা পার্টি কেড়ে নিয়েছে আজাদের প্রাণ। তানিয়ার মতো সোনিয়ার স্বামীকেও কেড়ে নিয়েছে গামছা পার্টি। স্বামী হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে তিনি এখন ঠাঁই নিয়েছেন বাবার বাড়িতে।

২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মে এই দেড় বছরে গামছা পার্টির হাতে প্রাণ গেছে ১৬ জনের। সবশেষ ৬ মে রাজধানীর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারের ওপর থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সুভাষ চন্দ্র সূত্রধর নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় গামছা পার্টিই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

১৭ মে রাতে খিলক্ষেত এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ছিনতাইকালে একটি চক্রের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে পুলিশের। দুই ছিনতাইকারী হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয় এবং আরও দুজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আটক দুজন স্বীকার করেছে, কীভাবে তারা মানুষের কাছ থেকে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে।

গামছা পার্টির হাত থেকে যারা বেঁচে ফেরা কয়েকজন জানান, গভীর রাতে এ চক্রটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয় যাত্রীর সন্ধানে। আগেই গাড়িতে থাকে চক্রের দুজন। যাত্রী হিসেবে তুলে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় সব। বাধা দিলেই শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে দেয়া হয় নির্জন কোনো ফ্লাইওভারে।

গামছা পেঁচানো অবস্থায় এখন পর্যন্ত যতগুলো লাশ পাওয়া গেছে তার সবই রাজধানীর ফ্লাইওভারে। কারণ ফ্লাইওভারগুলোতে নেই কোনো সড়ক বাতি, নেই সিসি ক্যামেরা।

পুলিশ বলছে খুব দ্রুতই পুরো রাজধানী সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, জুনের মধ্যে পুরো ঢাকা শহরের প্রতিটি জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানো ব্যবস্থা করা হবে। কোনো ঘটনা ঘটরার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই সমাধান ব্যবস্থা ছাড়া এসব অপরাধ রোধ সম্ভব নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, যখন কোনো সমস্যা হয় তখন দ্রুত সমাধান করা হয় কিন্তু স্থায়ী সমাধান করা হয় না।

গভীর রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ পুলিশের।

সান নিউজ/এসএম

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বোয়ালমারীতে নিষেধের পরদিনই ফুটপাত দখল, ৪ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক...

পপির মায়ের স্মৃতিচারণে ওমর সানী, ‘পপির মাও আমার শাশুড়ি’

একসময়ের জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপির মা মরিয়ম বেগম আর নেই। মঙ্...

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে...

ভারত ছাড়ার নোটিশে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে স্বস্তি পেলেন ইমরান খান

ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে জারি করা নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি...

পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনালকে হারিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ৪র্থ বিভাগের দল ফ্লিটউড

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠা আর্সেনালকে হারিয়ে ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণী...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা