সারাদেশ

বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে হলুদের সমুদ্র

মো. নিয়ামুল আকন্ঞ্জি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সকালের সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই ফুলের সমারোহে হেসে ওঠে চারদিক নীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল।

পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদে সরিষা ফুলগুলো বাতাসে দোলে দোলে তাদের কলি ভেদ করে সুভাষ ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে। এ যেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক লীলা ভূমি।

সরেজমিন সরিষা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সরিষা মাঠ জুড়ে ভিড় করছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিনোদন প্রেমিরা। সরিষা মাঠ ঘুরে ঘুরে দেখছেন তারা। কেউ কেউ মুঠোফোনে সেলফি তুলছেন।

একাধিক কৃষকের সঙ্গে বলে জানা যায়, এক সময় জেলায় ব্যাপক পরিমাণে সরিষার আবাদ হতো। সয়াবিনের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে সরিষার আবাদ। তবুও ধান চাষের পাশাপাশি ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সরিষার চাষ হয়ে থাকে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। আবাদও হয়েছে ১১ হাজার ৮২৭ হেক্টর জমিতে। জেলায় ১৫ হাজার ৯৬৩ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষক ফুল মিয়া বলেন, সরিষা চাষ করতে প্রতি কানি জমিতে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লাভ হবে প্রতি কানিতে ৫ হাজার টাকা। সরিষা চাষে যে সার আমরা ব্যবহার করি, পরবর্তীকালে ইরি ধান রোপনের সময় সার বেশি দেওয়া লাগে না। এতে আমাদের খরচ কিছুটা কমে যায়। এবার মেঘ-বৃষ্টি না হলে আমরা লাভবান হবো।

অপর কৃষক বাচ্ছু মিয়া বলেন, আমি এবার ৭ কানি জমিতে সরিষা চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। তবে কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। নিজের টাকা দিয়ে সার কিনেছি। পোকার আক্রমণ হলে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।

কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ফুল আসা শুরু হয়েছে মাত্র। কার্তিক মাসে বীজ বুনেছি, পৌষ-মাঘ মাসের দিকে সরিষা তুলবো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, এক সময় সরিষা আবাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্য ছিল। সয়াবিনের ওপর নির্ভর হওয়ার কারণে সরিষার আবাদ এখন অনেকটা বিলুপ্তির পথে। আমরা তেল জাতীয় ফসল আমদানি করার জন্য সরিষা চাষকে গুরুত্ব দিচ্ছি। দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি করারও চেষ্টা করছি।

সান নিউজ/কেটি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সৌদি গেলেন ৫৮৩৪৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

চলতি বছর হজ করতে বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার (১৫ মে) দি...

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে নদী-ডোবায় ফেলেন স্ত্রী

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় জিয়া উদ্দিন...

ঝড়-বৃষ্টির পাশাপিাশি ১৩ জেলায় অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ

দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্...

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও...

‘ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফর আর আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের চুক্তি একই’

রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের চুক্তি আর আমেরিকা...

প্রনস পরিবারের বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ

প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীতের (প্রনস) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো...

সবচেয়ে বড় রকেট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে স্পেসএক্স

এহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন এক ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে। আগ...

টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া হিমশৈল যেভাবে তৈরি

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিট। উত্তর আটলা...

ডুয়েটে ভিসি ইস্যুতে রণক্ষেত্র, আহত ১৫

নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষে...

বেরোবির সাবেক উপাচার্যকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনাল

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি র...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা