বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) ঘোষিত এ তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়েই হবে এবারের নির্বাচন।
বিসিবিতে পরিচালক পদে লড়তে হলে আগে কাউন্সিলর হতে হয়। তিনটি ক্যাটেগরিতে থাকা কাউন্সিলরদের ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত করা হয়। আরও দুজন পরিচালক থাকেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সরাসরি মনোনয়নে। এই ২৫ পরিচালকের ভোটে পরে সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
কাউন্সিলদের তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল শনিবার। এবারের নির্বাচনে ১৯২ জন কাউন্সিলর থাকবেন বলে জানানো হয়েছিল আগে।
সেই কাউন্সিলর বা ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে রোববার বিকেল ৪টায়। খসড়া ভোটার তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ করা হবে পরদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সেই আপত্তির ওপর শুনানির সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা। সেদিনই বিকেল ৫টায় প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়ন দাখিলের সময় বৃহস্পতি ও শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা।
মনোনয়নপত্র বাছাই ও তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী শনিবার। আপিল গ্রহণ ও শুনানির জন্য নির্ধারিত আছে পরের দিনটি।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ওই দিন দুপুর ২টায়।
পোস্টাল বা ই-ব্যালট যাদের জন্য প্রযোজ্য, তাদের আবেদন করতে হবে ২৫ মে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার মধ্যে। পোস্টাল বা ই-ব্যালট প্রেরণ করার সময় ১ জুন থেকে ৬ জুন। নির্বাচনের দিন দুপুর ১টার মধ্যেই এই ভোট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে।
৭ জুন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হবে নির্বাচন। গত নির্বাচন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে হলেও এবারেরটি হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবির বোর্ড কক্ষে।
ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হবে সন্ধ্যা ৬টায়। সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনও সেদিন রাতেই হয়ে যেতে পারে।
আট মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বিসিবি নির্বাচন এটি। গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়েছিল একটি পরিচালনা পর্ষদ এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের নানা অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী। পরে সেসব অভিযাগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ এপ্রিল আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
ওই কমিটি বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থাটি, যেটির প্রধান হয় তামিম ইকবালকে। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে বলা হয় কমিটিকে। সেই নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে দুই মাসের মধ্যেই।
গত বুধবার তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, যেটির প্রধানের দায়িত্ব পান সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম। কমিশনের বাকি দুই সদস্য গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং উপ সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
সাননিউজ/আরএ