গাজীপুরে কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে খুনের ঘটনায় পলাতক গৃহকর্তা ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সোমবার মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে আসামি ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। এদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ট্রাক চালকের একজন সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে মোবাইটি পড়ে থাকতে দেখে তুলে নেন। তারপর সেটি নিয়ে তিনি মেহেরপুরে চলে যান। পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তার সেটি উদ্ধার করে।
তারপর পুলিশ সেদিনের পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা করে। তখন দেখা যায়, ওইদিন সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি সাদা রংয়ের প্রাইভেট কার থেকে যে জায়গায় মোবাইলটি পাওয়া গেছে, সেখানে নামেন। তারপর রেলিংয়ের পাশে পা রেখে দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে রেলিং টপকিয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, সেই ব্যক্তি ফোরকান।
ধারণা করা হয়, আসামি ফোরকান পূর্বপরিকল্পিতভাবে পাঁচজনকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা সেতু থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পাঁচজন হলেন- শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) ও ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। শারমিন ও রসুলদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়ায়।
প্রায় দেড় যুগ আগে গোপালঞ্জের গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের ফোরকান মোল্লার সঙ্গে বিয়ে হয় শারমিনের। তিন সন্তান নিয়ে এই দম্পতি কাপাসিয়ায় থাকতেন। ফোরকান পেশায় গাড়ির চালক। শনিবার লাশ উদ্ধারের পর থেকে ফোরকান মোল্লা পলাতক রয়েছেন। বিভিন্ন আলামত ও স্বজনদের ভাষ্য থেকে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ‘পারিবারিক কলহের’ জেরে ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।শনিবার রাতেই নিহত শারমিন আক্তারের বাবা সাহাদত মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় জামাতা (শারমিনের স্বামী) পলাতক ফোরকানসহ অজ্ঞাত পরিচয় চার থেকে পাঁচ জনকে আসামি করা হয়।
সাননিউজ/আরএ