রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে মধ্যরাতে হামলা চালিয়ে পিটিয়ে বের করে দেওয়া হয়ে এই পীরের ভক্তদের।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতের এই হামলার ভিডিও–ছবি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সমালোচনাও হচ্ছে।
মাজার জিয়ারতকারী এবং স্থানীয় মানুষেরা এই হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের দায়ী করছেন। পুলিশও একই অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে হামলায় দলের কারও জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত।
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে মাজারে হামলার ধারাবাহিকতায় এই হামলা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আতঙ্কিত এখন শাহ আলীর ভক্তরা।
মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের কয়েকশ বছর প্রাচীন শাহ আলী বোগদাদির মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে জলসা বসে। সেখানে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই পীরের ভক্তরা আসেন। রাতে সেই জলসা চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মাজার জিয়ারতকারী ও অনুসারীদের মারধর শুরু করে বলে স্থানীয় মানুষেরা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু লোক লাঠি হাতে মাজারে আসা লোকজনকে পেটাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পীরের ভক্তরা মাজারের পূর্ব পাশে খালি জায়গায় মাদুর ও পলিথিন বিছিয়ে বসেন। সেখানে পণ্যের পসরা সাজিয়ে হকাররাও বসেছিলেন। রাত ১টার দিকে লাঠি হাতে ও মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরা একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ভক্ত ও অনুসারীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভক্ত অনুসারীদের পিটিয়ে বের করে দেয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রওজার পূর্ব পাশে সেই জায়গায় বাইরে থেকে আসা কিছু নারী ও পুরুষ মাদুর বিছিয়ে বসেছিলেন। শোনা যাচ্ছে, সেখানে মাদক সেবনের আসর বসেছিল। তবে শুক্রবারে জুমার নামাজ যে জায়গাটায় হয়, সেখানে বসে কেউ গাঁজা খান না।’
হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘জামায়াত-শিবির’–এর বলে শোনার কথা জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
শুক্রবার (১৫ মে) পুলিশের মিরপুর বিভাগের বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, জামায়াত-শিবিরের একটি অংশ হামলা চালিয়েছে।
মিরপুরে যে এলাকায় শাহ আলীর মাজার, তা ঢাকা–১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হন জামায়াতের প্রার্থী মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াত-শিবিরের লোকদের হামলা করার কোনো কারণ নেই। তারা হামলা করেননি।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারা হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলাও হয়নি।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয় বলে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।
সাননিউজ/আরএ