প্রতীকী ছবি
ফিচার

টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া হিমশৈল যেভাবে তৈরি

ডেস্ক রিপোর্ট

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিট। উত্তর আটলান্টিকের শান্ত কিন্তু হাড় কাঁপানো শীতের রাতে বিশাল এক হিমশৈলের (আইসবার্গ) সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ আরএমএস টাইটানিক। ২০ দশমিক পাঁচ নট গতিবেগে ছুটে চলা টাইটানিক জাহাজটি মাঝসাগরে তীব্রগতিতে আঘাত করলেও সেই হিমশৈল প্রায় অক্ষত ছিল।

স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যে হিমশৈলের আঘাতে টাইটানিক ধ্বংস হয়েছিল, সেটি সাধারণ বরফখণ্ড ছিল না। ১৯০৯ সালে গ্রিনল্যান্ডের একটি হিমবাহ থেকে বিশাল এক বরফখণ্ড ভেঙে সাগরে পড়েছিল। বিশাল সেই বরফখণ্ড থেকেই তৈরি হয় টাইটানিককে ডুবিয়ে দেওয়া ভয়ংকর হিমশৈলটি। ১৯০৯ সালে যখন সাগরে ভাসছিল হিমশৈলটি, প্রায় একই সময়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে শুরু হয়েছিল টাইটানিক জাহাজ তৈরির কাজ। টাইটানিক ছিল হোয়াইট স্টার লাইনের তিন যমজ জাহাজের একটি।

১৯১০ সালে হিমশৈলটি আরও উত্তর মেরুর দিকে চলে যায়। এরপর এটি ল্যাব্রাডর কারেন্ট নামের শীতল স্রোতের কবলে পড়ে দক্ষিণ দিকে যাত্রা শুরু করে। আটলান্টিকের ৪১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে পৌঁছানোর পরই মূলত টাইটানিকের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হিমশৈলটি। অধিকাংশ হিমশৈল এক বা দুই বছরের মধ্যে গলে গেলেও এটি টিকে ছিল প্রায় তিন বছর।

টাইটানিক জাহাজের নকশাকারীদের বিশ্বাস ছিল, টাইটানিকের পানিরোধক প্রকোষ্ঠগুলো জাহাজটিকে সব সময় ভাসিয়ে রাখবে। কিন্তু হিমশৈলের সঙ্গে আঘাতে ফলে জাহাজের ডান দিকের নিচের অংশে থাকা পাঁচটি প্রকোষ্ঠ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যদি কেবল একটি বা দুটি প্রকোষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তবে টাইটানিক হয়তো ভেসে থাকত। কিন্তু পাঁচটি প্রকোষ্ঠে পানি ঢুকে পড়ায় জাহাজের সামনের অংশ ভারী হয়ে সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ কার্পেথিয়া যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে হিমশীতল নীরবতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কার্পেথিয়ার যাত্রী বার্নিস পামার সে সময় হিমশৈলটির একটি ছবি তুলেছিলেন, যা বর্তমানে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রিতে সংরক্ষণ করা আছে।

গবেষক ড্যানিয়েল স্টোন বলেন, বিয়োগান্তক ঘটনাটি না ঘটার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তিন বছর ধরে সাগরে ভাসতে থাকা হিমশৈলটি গলে গিয়ে আয়তনে অনেক ছোট হয়ে আসছিল। হিসাব অনুযায়ী, আঘাত হানার সময় সেটির আয়ু বড়জোর আর এক থেকে দুই সপ্তাহ বাকি ছিল। শুধু তাই নয়, টাইটানিক যদি এক ঘণ্টা পরে সেখানে পৌঁছাত অথবা হিমশৈলটি কয়েকশ ফুট দূরে থাকত, তাহলে হয়তো এ ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।

সাননিউজ/আরএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সৌদি গেলেন ৫৮৩৪৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

চলতি বছর হজ করতে বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার (১৫ মে) দি...

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে নদী-ডোবায় ফেলেন স্ত্রী

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় জিয়া উদ্দিন...

ঝড়-বৃষ্টির পাশাপিাশি ১৩ জেলায় অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ

দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্...

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও...

‘ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফর আর আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের চুক্তি একই’

রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের চুক্তি আর আমেরিকা...

সৌদি আরবে ২৭ মে ঈদুল আজহা 

সৌদি আরবে রোববার (১৭ মে) পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দ...

প্রনস পরিবারের বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ

প্রসঙ্গ নজরুল-সঙ্গীতের (প্রনস) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো...

সবচেয়ে বড় রকেট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে স্পেসএক্স

এহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন এক ইতিহাস তৈরি হতে যাচ্ছে। আগ...

টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া হিমশৈল যেভাবে তৈরি

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিট। উত্তর আটলা...

ডুয়েটে ভিসি ইস্যুতে রণক্ষেত্র, আহত ১৫

নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষে...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা