ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশ

নারী শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

এস এম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং গর্ভবতী করার অভিযোগে কারখানা মালিক ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ঝালকাঠি শহরের পূর্ব কাঠপট্টি এলাকার আদি সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কস (শাহী ৯৯ জর্দা) কারখানার একজন নারী শ্রমিক। মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ঝালকাঠি পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ওই কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হক মনু মিয়াকে এবং ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে কারখানার শ্রমিক ফরিদ হোসেনকে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদ হোসেন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুবিনা বেগমকে কারখানার মালিক মনু মিয়ার কাছে নিয়ে যান। মনু মিয়া নানা প্রলবণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই নারী শ্রমিকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। এরপর চাকরির সুবাদে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়।

মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর ২ নম্বর আসামি ফরিদ হোসেনও তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে রুবিনা বেগম গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখতে এবং গর্ভের সন্তানের বৈধতা দিতে শামসুল হক মনুর উদ্যোগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদ হোসেনের সঙ্গে কাবিন রেজিস্ট্রি করানো হয়। পরে ১৫ জুলাই একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিলে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদ হোসেন তাকে তালাক দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইলে আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে তাকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাক্ষীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ২ ডিসেম্বর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর ন্যায়বিচারের আশায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় একাধিক সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী পার্থসারথি রায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী নারী যেন ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যেই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

অভিযুক্ত শামসুল হক মনু মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা এখনো থানায় এসে পৌঁছায়নি। হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাননিউজ/আরআরপি

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তারেক রহমানকে নেপাবের শুভেচ্ছা

মাননীয় সংসদ নেতা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানক...

মুন্সীগঞ্জ শহরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রমজান কে সামনে রেখে- মুন্সীগঞ্জ পৌর-শহরের প্রধান বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ অভিয...

বিজিবির অভিযানে অর্ধকোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ

কুষ্টিয়া সীমান্তে দুই দিনের অভিযানে প্রায় ৪৭ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ...

সুন্দরবন সংলগ্ন নারিকেলবাড়ীয়া ও আমবাড়ীয়ার খাড়িতে ২০ জেলে অপহৃত

সুন্দরবন–এর উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগর–এ পৃথক দুটি স্থানে জেলে বহরে হা...

আমরা জুলাই শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারি নাই: ডা: শফিক

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোট...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা