বিশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক

করোনার ঝুঁকিতে সব বয়সী মানুষই

সান ডেস্ক:
সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ করোনার প্রাদুর্ভাবে জীবন হারিয়েছেন। প্রায় ৪ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল যে করোনা ভাইরাসের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কিন্তু নতুন কয়েকটি জরিপের পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পর সেই ধারণা পাল্টে যাচ্ছ। করোনাতে বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়া সম্ভাবনা অনেক বেশি হলেও তরুণদেরও সতর্ক থাকতে আহবান জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। এমনকি সদ্য ভুমিষ্ট শিশুও আক্রান্ত হতে পারে নোভেল করোনাভাইরাসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. আইলওয়ার্ড সতর্ক করে দিয়ে এরই মধ্যে বলেছেন, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত তরুনদের একটি বড় অংশের মৃত্যূ হয়েছে এরই মধ্যে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর ৭০ হাজারেরও বেশি রোগীর তথ্য নিয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮০ এবং এর বেশি বয়সী মানুষের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি—১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। ৪০ বছর বয়সের কোঠায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বয়সীদের মৃতের হার বেশি হলেও ঝুঁকি সব বয়সীদেরই। করোনা আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে ভর্তি হ্ওয়াদের ২০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। মার্কিন এক গবেষণা প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৫০০ আক্রান্তকে নিয়ে সে দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। বয়সভিত্তিক ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স্কদের তুলনায় তরুণরা ভালো অবস্থায় থাকলেও তারাও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয় বলে জানানো হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটি বলছে, তরুণদেরও একটা বড় অংশ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে ৮৫ বছর এবং এর থেকে বেশি বয়সী মানুষদের মধ্যে মৃত্যুহার সবথেকে বেশি, যা ১০ থেকে ২৭ শতাংশ। ৬৫ থেকে ৮৪ বছর পর্যন্ত মৃত্যুহার ৩ থেকে ১১ শতাংশ এবং ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার ১ থেকে ৩ শতাংশ। আর ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার ১ শতাংশ কিংবা তার চেয়ে কম। ১৯ বছরের নিচে কারও মৃত্যু হয়নি।

তবে শুধু তরুনরাই নয়, যে কোন বয়েসী মানুষই আক্রান্ত হতে পারেন কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসে। গত ১৪ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া সদ্য জন্ম নেয়া এক শিশুর দেহে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

মৃত্যুর দিকে থেকে ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছে ইতালি। ২৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যূ সংখ্যা ৬ হাজারের ওপরে। দেশটিতে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, সেখানকার বয়স্ক মানুষের সংখ্যাধিক্য। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়স্ক মানুষের বসবাস ইতালিতে। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার অধিবাসীদের ২৩ শতাংশই ৬৫ কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সী। আর সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকদের বয়স ৮০ ও ৯০ এর ঘরে।

বয়স্করা কেন মারা যাচ্ছেন, তার জবাব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাবের উৎসের জায়গায় আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকা এবং ভাইরাসের সঙ্গে দেহ খাপ খাওয়াতে না পারাই এর মূল কারণ। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায় তা সবারই জানা।
টেম্পল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব পাবলিক হেলথ-এর রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ক্রিস জনসন মনে করেন, বয়সের পাশাপাশি কেউ যদি অন্তত এমন একটি রোগে আক্রান্ত হন যা তাদের

অধ্যাপক হান্টারের মতে, ২০ বছর বয়সে দেহে যে মানের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা ৭০ বছর বয়সে হয় না। এসব কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রান্তের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি এবং কখনো কখনো তা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন যে, করোনাভাইরাসে শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি কম মানে তারা আক্রান্ত হয় না, এটিও ঠিক নয়। এবার সবচেয়ে কম বয়সী আক্রান্ত শিশুটির বয়স ছিল মাত্র কয়েক দিন। যদিও কোভিড-১৯–এ শিশুদের লক্ষণের ব্যাপারে খুব কম তথ্যই পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)ও হুশিয়ার করে দিয়েছে যে, আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বৃদ্ধরা থাকলেও তরুণরা এ ঝুঁকির বাইরে নয়। ফলে তরুণদেরও সমান তালে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে হু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, করোনাভাইরাসের ঝুঁকির বাইরে নয় তরুণরা। সংস্থাটি বলছে, সামাজিক মেলামেশা বা যোগাযোগের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত তরুনদের।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশে তরুণদের সতর্কতামূলক নানা বিধিনিষেধ না মানার খবর দেখে গত শুক্রবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সতর্কবার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ হু।

ঝুঁকি কম মনে করে আসা তরুণদের সেসব নির্দেশনা পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে বিভিন্ন দেশ থেকে অভিযোগও আসছে। ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস বলেছেন, “যদিও বয়সী মানুষদের মৃত্যু বেশি হচ্ছে, তবুও তরুণদের প্রতি আমি বলব, আপনারাও ঝুঁকিমুক্ত নন। এই ভাইরাস আপনাকেও হাসপাতালে পাঠাতে পারে, আপনাকে দুর্বল করে তুলতে পারে, এমনকি মৃত্যু ঘটাতে পারে।”

তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। এই ধারণা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গাতেই তরুণদের মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কে কম সতর্ক থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই তরুনদের। এমনকি আক্রান্ত হয়ে কোনো তরুণ অসুস্থ না হলেও তার বিচরণে ঝুঁকিতে থাকা কারও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কার কথাও জানান গ্যাব্রিয়েসাস।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সিগঞ্জে ৯ গ্রামে আজ  উদ্‌যাপিত ঈদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,মুন্সিগঞ্জ:মুন...

হালকা বৃষ্টি থাকবে ঈদের দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের দিন ঢাকাসহ...

টিকা নেয়া ৯৭ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের সেরাম ই...

সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ : সির...

বিএনপি নেতাকর্মীদের ঈদ নেই একযুগ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি নেতাকর্...

জেমির সহকারী ওয়াটকিস এখন ঢাকায়

স্পোর্টস ডেস্ক : ১০ মে রাতে ঢাকায় আসেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল...

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দূরপাল্লার বাস চলছে 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভাবগাম্ভীর্যের...

অক্সিজেনের অভাবে ৭৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের গোয়া ম...

ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে হামাসের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনির গা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা