বাণিজ্য

ঈদের আগে অর্থনীতিতে সুবাতাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে টালমাটাল অর্থনীতি। সারাবিশ্বের মতো দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতিতে লেগেছে সুবাতাস। রফতানি আয় আর রেমিট্যান্সের ডানায় ভর করে দোলা দিচ্ছে এই সুবাতাস।

জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসে দেশে রফতানি আয় বেড়েছে ২৬১ কোটি ডলার বা ৫০৩ শতাংশের বেশি। শুধু রফতানি আয় নয়, এপ্রিলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেকর্ড সংখ্যক রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আলোচ্য সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২০৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার (২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন)। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। গত বছর এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৯ কোটি ডলার।

বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিধিনিষেধের সময় রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের যে খবর শোনা যাচ্ছে তা বেশ প্রেরণাদায়ক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৬৭ কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার ৭১২ কোটি টাকা)। এর আগে কোনো অর্থবছরের দশ মাসে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি বাংলাদেশে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে ১০ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থবছর হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। তারও আগে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়। ওই সময় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে।

এদিকে, চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও পণ্য রফতানিতে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে অর্থনীতিতে নতুন পালক যোগ করতে সক্ষম হয়েছে খান সংশ্লিষ্টরা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত বছর দেশ দুই মাসের বেশি সময় লকডাউনে ছিলো। তখন পণ্য রফতানি প্রায় বন্ধ ছিল। ২০২০ সালের এপ্রিলে রফতানি খাত বড় ধরনের হোঁচট খায়। রফতানি নেমে যায় মাত্র ৫২ কোটি ডলারে। এ বছর এসে সেই বিপর্যয় কেটেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ৩১৩ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৫০২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

সার্বিকভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) তিন হাজার ২০৭ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আট দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ছয় দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছিল তৈরি পোশাক খাতের রফতানি। অন্যদিকে হিমায়িত মাছসহ সবধরনের হিমায়িত খাদ্যের রফতানি কমে ৯ শতাংশের মতো। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ছয় শতাংশের বেশি রফতানি কমেছে। ফার্নিচারের রফতানি কমেছে ১৩ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি রফতানি কমেছে জাহাজ শিল্পে। এই খাতে রফতানি কমেছে ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ১০৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া ৯৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রফতানি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫৪ শতাংশের বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৭৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য, ৪৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য, ৩৯ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে চামড়া ও চামড়া পণ্যে সাড়ে আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অবশ্য চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরও ৮৯৩ কোটি ডলার প্রয়োজন। মে ও জুন মাসে এই পরিমাণ রফতানি অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আবু আহমেদ সাননিউজকে বলেন, রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের ঊর্দ্ধমুখি ধারা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে অনেকেই মনে করছেন, এই ধারা স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ হিসেবে তারা জানান, ঈদের আগে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠানোর চেষ্টা করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এ জন্য রেমিট্যান্স বেড়েছে।

সাননিউজ/আরএম/আরএস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ড্রেন নির্মাণ

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান সড়ক জুবিলী রোডে বৈদ্যুতি...

টঙ্গীবাড়িতে গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ইমাম গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে এক গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও...

বিটিভিতে শুরু হচ্ছে ‘কিংবদন্তির সান্নিধ্যে’

দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত গুণিজনদের জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নিয়ে...

বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা

একসময় ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে নতুন জীবনের স্বপ্ন...

মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে উত্তাল সাভার-আশুলিয়া

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও উত্ত...

পদ্ম ব্যারেজ, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও ‘ওয়াই-আকৃতি’র পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে সরকার

দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে...

দেনায় ডুবছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন!

এক ঝলকে এআইএফএফের আর্থিক সংকট 🖊️ ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্...

নওগাঁ কারাগারে নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতার মৃত্যু

নওগাঁ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় আকস্মিক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কা...

ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রতিবাদের ঝড় থাইল্যান্ডে!

এক নজরে থাইল্যান্ডে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ওয়াশিংটন-তেল আবিবকে কোণঠাসা করে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চাল

এক নজরে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা : ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা