বাণিজ্য

করোনায় ১৪৩ ব্যাংকারের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ১৪৩ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৭ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে গত জুনেই আক্রান্ত হন ১ হাজার ৮৩৭ ব্যাংককর্মী এবং ১০ জন মারা যান।

সোমবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধিক কর্মীসমাগম ঠেকাতে অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, সাধারণ ছুটি, লকডাউন বা বিধিনিষেধ; সবসময়ই জরুরি সেবা হিসেবে ব্যাংকের কার্যক্রম চলছে। নানা প্রতিবন্ধকতায় অফিসে যাতায়াত এবং ব্যাংকিং সেবা দিতে গিয়ে অনেক সময় সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন অসম্ভব হয়ে যায়। এসব কারণে ব্যাংকাররা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী করোনায় মারা গেছেন। ব্যাংকটিতে এ পর্যন্ত ২৭ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ২২ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর মারা গেছেন পাঁচজন। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ১১ জন এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের সাতকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. কামাল হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংক চালু রাখা জরুরি। এর বিকল্প নেই। আমরাও ব্যাংকারদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ঘোষিত সব নিয়মকানুন পরিপালনের চেষ্টা করছি। কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করছেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক বাই-রোটেশন (চক্রাকারে) ডিউটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ না পড়ে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার পরও আমাদের কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে, ব্যয়ও বহন করা হচ্ছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আক্রান্ত ও মারা যাওয়া কর্মীদের সব ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ব্যাংককর্মীদের মধ্যে প্রথম মারা যান সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মুজতবা শাহরিয়ার (৪০)। গত বছরের ২৬ এপ্রিল মুগদা জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর ব্যাংকারদের মধ্যে ভীতি ছড়ায়। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংককর্মীদের কাজে ফেরাতে বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঝুঁকিবিমাসহ যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে এককালীন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যাংকসেবা চালু রাখতেই হবে। এজন্য কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়, কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পদভেদে ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ অর্থ কোনভাবেই কর্মীর ঋণ বা অন্য কোন দায়ের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে না।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। বিশ্বজুড়ে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে ৫০ লাখের অধিক মানুষ মারা গেছেন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর সরকার সাধারণ ছুটি, লকডাউনসহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় ১৯ হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জন। ১০ লাখ নয় হাজার ৯২৩ জন সুস্থ হয়েছেন।

সাননিউজ/এমআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি...

ঈদুল আজহায় কোটি পশু কোরবানির সম্ভাবনা: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার সারা দেশে প্রায় এক কোটি পশু...

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছ...

কাবা শরিফ ঢেকে রাখা হয় কেন, কিসওয়া কী

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আন...

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কার গায়ে থাকবে

ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি একটি গুরুত্ব বহন করে। কিছু...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা