ছবি: সংগৃহীত
নারী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭ তম জন্মদিন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮ তম অধিবেশনে যোগ দিতে এ দিন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন: তুরাগ নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন

শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীবিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান।

টুঙ্গিপাড়ায় দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেলসহ তারা ৫ ভাই-বোন।

আরও পড়ুন: ইতিহাসের এই দিনে বিশ্ব তথ্য অধিকার দিব

তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া বর্তমানে কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু ও মাতা ফজিলাতুন নেছাসহ সবাই ঘাতকদের বুলেটে নির্মমভাবে নিহত হন।

টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায় শেখ হাসিনার শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পুরোনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার সদস্য হলে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় বসবাস শুরু করেন। তখন শেখ হাসিনাকে ঢাকায় টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শেরে বাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে খ্যাত। এ সময় থেকে শুরু হয় তার শহরবাসের পালা।

আরও পড়ুন: মহানবীর আদর্শে কাজ করার আহ্বান

শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয় পুরো পরিবারকে।

১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গৃহবন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনা তার প্রথম সন্তান ‘জয়’র মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর তার কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়।

আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস

পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় শেখ হাসিনা কীভাবে বাঙালি জাতির কান্ডারি হয়েছেন, তারই ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস।

শেখ হাসিনাকে ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ঐ বছরের ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি।

এরপর ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে। সে বছরের ২৩ জুন তিনি প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় তাকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। এ সময় অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে গেলেও ঐ হামলায় ২৪ জন নিহতসহ ৫০০ নেতাকর্মী আহত হন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।

তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তার লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০ টিরও বেশি।

আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধ অবিশ্বাসীদের বয়কটের আহ্বান

তার প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হলো- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সর্ম্পক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহে না মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।

শেখ হাসিনা এবার চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন তিনি।

সেই সাথে তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়া মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

আরও পড়ুন: ভিসানীতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়

১৯৮১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এ নেতা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন।

১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন শেখ হাসিনা।

তার অর্জনসমূহ- বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, ৭১’র ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি, সমুদ্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সাথে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর ৪ মাসে উন্নীত, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদরাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফাইভ-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে দেশ।

আরও পড়ুন: কিছু গোষ্ঠী তিক্ততা সৃষ্টির চেষ্টা করছে

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু জানান, আমরা যেমন বলি- বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না. তেমনই শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ জাতি চোখে দেখতো না। শেখ হাসিনার জন্মের সফলতা ও স্বার্থকতা কর্মের মধ্য দিয়ে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার রোল মডেল। শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন ও অর্জনের রোল মডেল।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজে যা অর্জন করেছেন, তা নজিরবিহীন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন তিনি। তার জন্মদিন উদযাপন না করলে আমরা জাতির কাছে অকৃতজ্ঞ থেকে যাবো।

সান নিউজ/এনজে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

লিবিয়া উপকূলে ১০ অভিবাসী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লিবিয়ার জোয়ারা উপকূলে একটি কাঠের নৌকায় গ...

মাক্সিম গোর্কি’র প্রয়াণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজকের ঘটনা কাল অতীত। প্রত্যেকটি অতীত সময়ের...

টিভিতে আজকের খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রতিদিনের মতো আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) বেশ কিছু...

যানজটের রাজধানী এখন ফাঁকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ। কে...

দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কুরবানি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বি...

তাপপ্রবাহে নয়াদিল্লিতে ৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ওপর দিয়ে যে ভয়া...

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, নিহত ২ 

জেলা প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কব...

ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি: কক্সবাজারে স্বামী-স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় গল...

সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ৪ টি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় স...

বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা