সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হয়। এর আগে বেলা ১১টা থেকেই খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসা মানুষের ভিড় জমে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সে সময় তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
দুপুর ১২টার দিকে প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হলে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ একে একে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। তারা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই সেখানে মোনাজাত করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মারা যান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে অগণিত মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাঁর ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন তাঁর কোনো ব্যবহার বা কথায় যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আপনারা সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন। আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। এখানে উপস্থিত সকল ভাই ও বোনদের উদ্দেশে বলতে চাই, মরহুমা যদি কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ইনশাআল্লাহ আমি তা পরিশোধ করব।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সংসদ ভবন এলাকা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সড়কে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এছাড়া আসাদ গেট থেকে মোহাম্মদপুর টাউন হলের কাছাকাছি পর্যন্ত, আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে শিশু মেলার (শ্যামলী) পর্যন্ত এলাকায়ও বিপুল মানুষ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিহাসে স্থান করে নেন; একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবেও তাঁর নাম উল্লেখযোগ্য।
সাননিউজ/আরআরপি