ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ

ইটভাটার গ্রাম পাঁচখোলা, নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি

এস আর শফিক স্বপন, মাদারীপুর: মাদারীপুরের সদর উপজেলায় এক নামে ইটভাটার গ্রাম নামে পরিচিত পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর পাঁচখোলা গ্রাম। এ গ্রামে এক সময় দুচোখ যতদূর যেত, ছিল সবুজের সমারোহ ছিল। ফসলি জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলতো। ইটভাটার আগ্রাসনে সেসব ফসলি জমি হারিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: কবিরহাটে সড়ক পাকাকরণের দাবি

সরেজমিন দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর পাঁচখোলা গ্রামের ফসলি জমিতে গড়ে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক ইটভাটা। বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত করে উর্বর মাটি তুলে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও সারি সারি ইট সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

পাশেই চিমনি দিয়ে বের হচ্ছে কালো ধোঁয়া। এতে করে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। এমন চিত্র সারা মাদারীপুরেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নেই গড়ে তোলা হয়েছে ২৩ টি ইটভাটা। এদের অধিকাংশ ইটভাটার ইট পোড়ানোর অনুমতি আছে।

আরও পড়ুন: বই থেকে শরীফার গল্প বাদ দিতে নোটিশ

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। এতে করে স্বাস্থ্যগত মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ নাগরিকরা।

পাঁচখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোকলেসুর রহমান মোল্লা বলেন, আমাদের এলাকায় আগে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ ফসলি জমি এখন ইটভাটার দখলে। জমি এমনভাবে গর্ত করা হয়, যাতে করে পাশের জমি ভেঙ্গে পড়ে। এভাবেই জমিগুলো দখল করছে। এছাড়া ইটভাটার কারণে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষ। আমরা এর প্রতিকার চাই।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় শিক্ষার হাট

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, কৃষি ও কৃষি জমি নষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ইটভাটা। এছাড়া ভাটার দূষণ ও বিরূপ প্রভাবে আশপাশের জমির ফসলহানি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত নয় ফসলি জমি নষ্ট হয় এমন স্থানে ইটভাটার লাইসেন্স দেয়া। অথচ ফসলি জমিতেই গড়ে উঠেছে ইটভাটা।

মাদারীপুর পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক এডভোকেট মাসুদ পারেভেজ বলেন, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। এ বিপন্ন পরিবেশকে বাঁচাতে হলে ইটভাটার দূষণ থেকে আমাদের আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন: বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা

মাদারীপুর জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট আবুল হাসান সোহেল বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা আছে, আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমিতে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ওই আইনে বলা হয়েছে নির্ধারিত সীমারেখার (ফসলি জমি) এক কিলোমিটারের মধ্যেও কোনো ইটভাটা করা যাবে না।

মাদারীপুর ইটভাটা শিল্প মালিক সমিতির দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি অভিযুক্ত ইটভাটা মালিকরাও কথা বলতে চান না।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, কোনো কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটা করা যাবে না। আইনগতভাবে এটা নিষিদ্ধ। অবৈধ ইটভাটা থাকলে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

সান নিউজ/এনজে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সরকার বিকল্প শ্রম বাজার খুঁজছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্...

সরকার বিকল্প শ্রম বাজার খুঁজছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্...

হিসাববিজ্ঞানীদের কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক বিশ্বে হিসাববিজ্ঞান...

আমাদের উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নাই’ : বাকের কালিবাফ

যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্ট...

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত রাখাই একমাত্র সমাধান?

ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট...

সাজানো সংকট দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

মাদারীপুরের গ্যাসের গোডাউনে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নি...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা