টানা দুই সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বৈরী আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কৃষকদের বোরো বীজতলার চারা বা অঙ্কুর হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে।
ঘন কুয়াশা ও শীতের কবল থেকে বীজতলার চারা রক্ষার জন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা কৃষকদের পলিথিন ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে বীজতলার অবস্থার অবনতি ঘটছে।
উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় দেখা যায়, প্রায় সব এলাকার বীজতলার একই অবস্থা। তবে যেসব এলাকায় ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বীজতলায় ধান বপন করা হয়েছে, সেসব বীজতলার চারা কিছুটা ভালো রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে চলতি বোরো মৌসুমে মারাত্মক চারা সংকট দেখা দিতে পারে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, সকল কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের দোরগোড়ায় গিয়ে বীজতলার চারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল মৌজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা থেকে বীজতলার চারা রক্ষার জন্য রাত থেকে পরদিন কুয়াশা চলাকালীন পর্যন্ত পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। কুয়াশা বন্ধ হলে পলিথিন সরিয়ে দিতে হবে। কুয়াশা কেটে না যাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন একইভাবে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি শীত সহনশীল কীটনাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক মিয়া, আব্দুল মতিন মিয়া, শ্রীপুর ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের কৃষক শফিউল ইসলাম এবং চণ্ডিপুর ইউনিয়নের সীচা গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন ও আব্দুল আউয়াল মিয়াসহ অনেকে বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলার চারা রক্ষার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।
সাননিউজ/আরপি