মাদারীপুরে ডিবি পরিচয় দিয়ে মাইক্রোবাস ডাকাতির অভিযোগে চারজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিবচর থানা পুলিশ ভুয়া নামপ্লেট যুক্ত ৩টি মাইক্রোবাস ও ১টি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১টার সময় এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন কাদের এই তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদারীপুর জেলার শিবচরের যাদুয়ারচর এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র গত ২১ নভেম্বর রাত ১টা ২০ মিনিটে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে খেলনা পিস্তল, ওয়্যারলেস সেট ও হ্যান্ডকাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগী সোলাইমান মিয়া নামক এক মাইক্রোবাস চালকের কাছ থেকে তার মালিকানাধীন টিআরএক্স হাইএক্স মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৬-০৭৭২) ডাকাতি করে।
সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে গাড়ি মেরামত শেষে শিবচরের শেখপুর এলাকায় পৌঁছানোর আগেই অজ্ঞাত ১০-১২ জন যাদুয়ারচর এলাকায় গাড়ি দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। তারা ডিবি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের মোবাইল ফোন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং গাড়িতে চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নেন। পরে ভুক্তভোগী ও যাত্রীদের পাঁচ্চর এলাকায় ফেলে দিয়ে মারধর করা হয়। পরে সোলাইমান শিবচর থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের নির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশের একটি টিম ডাকাতদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয় করে কুমিল্লা, সাভার ও কক্সবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশ অভিযানে চারজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি হওয়া ৩টি মাইক্রোবাস ও ১টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ভুয়া নামপ্লেটসহ অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
আল-আমিন (৩৬), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার নতুন বাজার ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।
পারভেজ হোসেন (৩০), ঢাকা জেলার সাভার থানার তেঁতুলতলা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর গ্রামের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের ছেলে।
জাকির ইসলাম (২৩), নীলফামারী জেলার ডোমার থানার পাঙ্গা মটুকপুর আদর্শ গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
মোঃ সবুজ হোসেন (৩৪), যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার চুয়াডামনকাঠি ইউনিয়নের খিতিবদিহা গ্রামের মাওদি ইসলামের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তারা সর্বদা সচেষ্ট এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধারকৃত গাড়ির মালিক সোলাইমান বলেন, “ডাকাতরা আমাকে মারধর করেছে। রেজাউল স্যার ও কাশেম স্যার আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। ডাকাতদল আমাকে চোখ-মুখ বেঁধে পাঁচ্চর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফেলে দিয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাননিউজ/আরআরপি