সারাদেশ

ফের দখলের মুখে বুড়ি তিস্তা নদী

কামরুজ্জামান স্বাধীন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের উলিপুরে খনন করা বুড়ি তিস্তা নদীটি দখলের মহাৎসব চলছে। গুনাইগাছ ব্রীজ (তিস্তা ব্রীজ) থেকে প্রায় ১ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে খননের পর থেকেই নদী দখল করে প্রকাশ্যে বিল্ডিং নির্মাণসহ দুই পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। নামী-বেনামী এই চক্র যে যেভাবে পারছে সেভাবেই বুড়ি তিস্তার মাটি লুটসহ নদীটিকে আবারও দখলে দুষণে পুড়ে তুলছে।

আরও পড়ুন: তাজিকিস্তানে তুষারধসে নিহত ১৭

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার এলাকায় মূল তিস্তা নদীর সাথে কানেক্ট বুড়ি তিস্তা নদীর মুখে দেয়া ব্যারেজ গেটটি পানির তোড়ে ধসে যায়। তার কিছুদিন পরেই পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ভাবে অর্জুন গ্রামে বুড়ি তিস্তার উৎস মুখে বাঁধ নির্মাণ করেন। ফলে বুড়ি তিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দখল আর দূষণে প্রমত্তা বুড়ি তিস্তা নদী মরা খালে পরিণত হয়।

গত ৪ বছর আগে বুড়ি তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন শুরু করেন উলিপুর প্রেসক্লাব এবং রেল, নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটি। আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে বিগত ২০১৮ সালে বুড়ি তিস্তা প্রধানমন্ত্রীর ডেলটা প্ল্যান কর্মসূচির আওতায় ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৮০ ফুট প্রস্থ ও ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ নদী খনন কাজ করে। প্রাণ ফিরে পায় মরা বুড়িতিস্তা। বুড়ি তিস্তা নদীটি উপজেলার থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন এলাকা থেকে প্রবাহিত হয়ে চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে। কিন্ত সেই বুড়ি তিস্তা নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সহ দখল ও দুষনে আবারো একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা

সরেজমিনে, পৌর শহরের গুনাইগাছ ব্রিজ, জোদ্দার পাড়া, বলদি পাড়া, নারিকেল বাড়ি কাজির চক, খামার, চরপাড়া এলাকার বুড়িতিস্তা পাড় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় নদীর পাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। আবার কেউ পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে গেছে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে বাঁশ আর জালের ঘের দিয়ে মাছ চাষ ও বিল্ডিং নির্মাণ করছেন আকতারুজ্জামান অপু ও আবুল কালাম মন্ডল।

এদিকে, বুড়িতিস্তা নদীর গুনাইগাছ ব্রিজ পয়েন্টে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ সহ নদীটি মেরে ফেলার অপচেষ্টাও চলছে। ফলে বুড়িতিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরের গুনাইগাছ ব্রিজ জোদ্দার পাড়া এলাকায় কিছু শ্রমিককে বুড়ি তিস্তা নদীর পাড় কেটে মাটি নিয়ে যেতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: সত্য বললে দেশের উপকার হবে

এ বিষয়ে শ্রমিক আবু কালাম জানান, আমরা কাজ করি টাকার জন্য। আজ অপু ভাইয়ের কাজ করছি তাকে বলেন। তারা আরো জানান, ওই যে নদীতে মাছ চাষের জাল দেখছেন ওটা ও আকতারুজ্জামান অপু ভাইয়ের।

এ ব্যাপারে দখলদার চক্রের হেতা আকতারুজ্জামান অপুর নিকট জানতে চাইলে তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন, এখানে কোন সরকারি জায়গা নেই। আমার পৈত্রিক সম্পত্তির মাটি কাটবো তাতে কার কি ! নদী দখল করে বিল্ডিং নিমার্ন করছেন কেন জানতে চাইলে বলেন, সরকারকে ভেঙ্গে দিতে বলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে নদীর পাড় কাটলে বর্ষা মৌসুমে লোকালয়ে পানি ঢুকে শহরে ও নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হবে। নদী রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারী না থাকায় যে যার মত করে বুড়ি তিস্তা নদীকে দখল করে অবকাঠামো নিমার্ন ও ময়লা আবজর্না ফেলে পরিবেশ দুষণ করছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় নদী তার ফিরে পাওয়া ঐতিহ্য আবার দ্রুত হারিয়ে ফেলবে।

আরও পড়ুন: হোটেল থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধার

রেল, নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণ কমিটির উলিপুর শাখার সভাপতি আপন আলমগীর বলেন, বুড়ি তিস্তা নদীর পৌরসভার কিছু অংশে একটি চক্র আবারো নদী দখলে হীন অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বুড়ি তিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূর করাসহ নদী রক্ষায় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি উলিপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার বলেন, এভাবে বুড়ি তিস্তা দখল হতে থাকলে, সরকারের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বুড়ি তিস্তা নদীর পৌর এলাকায় অধিগ্রহণে আইনি জটিলতার সুযোগে ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমির মালিকরা বেআইনীভাবে নদীর পাড়ের মাটি কাটছে এবং দখল করে ভবন নিমার্ন করছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সান নিউজ/এমআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

নোবিপ্রবিতে শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে মার্ক টেম্পারিংয়ের অভিযোগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান...

ড. জন লি লিগ্যাসি অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস অ...

‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলে দিশেহারা গ্রাহক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রি-পেইড ও স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটারের গ্রাহকদের মধ্যে অস্...

ঝালকাঠিতে কবি স্মরণ, যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঝালকাঠিতে ভিডিও কনফারেন্স এর...

বিদেশ-ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

মুন্সীগঞ্জে বিদেশ-ফেরত কর্মীদের টেকসই পুনরায় একত্রীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এব...

তৃতীয় বিয়েতে আমির, অতিথি দুই সাবেক স্ত্রী

বলিউড তারকা আমির খান আবারও নতুন জীবনে পা রাখতে চলেছেন। আগামী ৫ জুলাই প্রেমিকা...

হামে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদে...

শেরওয়ানির জন্য থামল ফ্লাইট, তদন্তে কর্তৃপক্ষ

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঘটেছে অস্বাভাবিক এক ঘটনা। উড্...

খামেনির দাফন ঘিরে ৭ দিনের কর্মসূচি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহজু...

লঘুচাপে বাড়ছে বৃষ্টি, ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা