আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা ও ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে।
দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে নেমেছেন মনোনয়নবঞ্চিত আরও দুই প্রভাবশালী নেতা। ধানের শীষের প্রার্থীর অভিযোগ, দলের নাম ভাঙিয়েই প্রচারণা চালাচ্ছেন ওই দুই নেতা। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া সাধারণ মানুষ চান একটি উৎসবমুখর নির্বাচন।
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি শুরুতে কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নামেন মনোনয়নবঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও নাদিরা আক্তারের সমর্থকরা। একপর্যায়ে তারা ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কামাল জামান মোল্লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা এবং একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিএনপির হাইকমান্ড তার মনোনয়ন স্থগিত করে। পরবর্তীতে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পান নাদিরা আক্তার।
বর্তমানে এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নাদিরা আক্তার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে আছেন কামাল জামান মোল্লা এবং দলের আরেক প্রবীণ নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী।
শিবচরের এই তিন প্রভাবশালী নেতার অনড় অবস্থানে স্থানীয় বিএনপিতে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
নাদিরা আক্তার বলেন, আমার পরিবার শহীদ জিয়ার সময় থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবেদিত। আমার শ্বশুর শামসুল হুদা চৌধুরী ও চাচা শ্বশুর এই আসন থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করেছেন। আমার স্বামী নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরী শিবচর বিএনপির দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন। দলের দুঃসময়ে আমরা হাল ছাড়িনি। দল আমার পারিবারিক ঐতিহ্য ও ত্যাগ বিবেচনা করেই মনোনয়ন দিয়েছে। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান—আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করি।
এদিকে কামাল জামান মোল্লা তার মনোনয়ন স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা। কিছু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে আমার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। আমি তারেক রহমানের ঘোষণায় বিশ্বাসী—ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। আমি জেল-জুলুম সহ্য করে দল গুছিয়েছি। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত আমাকে মনোনয়ন নাও দেয়, তবুও আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে এই আসনটি দলকেই উপহার দেব।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী তার শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, আমার বয়স এখন ৭০ বছর। জীবনের পুরোটা সময় বিএনপির জন্য বিলিয়ে দিয়েছি। এবারই আমার শেষ নির্বাচন। দল আমার বয়স বা ত্যাগ—কোনোটিই বিবেচনায় নেয়নি। শিবচরে আমার একটি বিশাল ভোটব্যাংক আছে। তাই কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। জীবনের শেষ সময়টুকু আমি জনগণের সেবায় কাটিয়ে দিতে চাই।
সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আবহ তৈরি হওয়ায় শিবচরের ভোটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হয় কি না, তা দেখতেই এখন অপেক্ষায় মাদারীপুর জেলাবাসী।
সাননিউজ/আরআরপি