মতামত

শুনেছি কাকের মাংস কাকে খায় না, বাস্তবে...

পি আর প্ল্যাসিড: এতোদিন ধরে শুনে আসছি, কাকের মাংস কাকে খায় না। বাস্তবে কাকে কাকের মাংস না খেলেও, যে অর্থে কথাটি বলা হয় সেই অর্থে দেশে বর্তমান সময়ে যে সকল ঘটনা ঘটছে দেখছি, তা যেন তার চেয়েও বেশি কিছু।

বয়স হবার পর থেকে জেনে আসছি, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বা আদালতের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যায় না। বলার রীতি নেই। এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটলে সেটা হয় আদালত অবমাননার সামিল। অথচ অতি সম্প্রতি দেশে একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধেই নয় কেবল, একেবারে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধেই কথা হচ্ছে। আসামী করে আদালতে অপরাধী প্রমাণ করা হচ্ছে প্রাক্তন একজন প্রধান বিচারপতিকে।

আমি বলছি না এমন ঘটনায় প্রধান বিচারপতি (প্রাক্তন)-র উপর ন্যায় বা অন্যায় করা হয়েছে। তবে এটা প্রচলিত সেই কথার বাইরে নতুন কিছু ঘটিয়েছেন আইনজীবী তথা বর্তমান আদালতের বিচারপতিগণ, সে কথা-ই বলছি। কেউ হয়তো এক্ষেত্রে বলার চেষ্টা করছেন, আইন সকলের জন্য সমান। এমন কথা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি। তাই নতুন করে উল্লসিত হবার কিছু দেখছিনা এতে।

আমার কাছে বিষয়টি মনে হয়েছে, কাকের মাংস কাকের খাওয়ার সামিল। তারপরেও পরিবর্তনের ধারা শুরু করায় সাধুবাদ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্টদের। এখন থেকে সকলের জন্যই যেন আইন সকলের জন্য সমান হয়। সেই প্রত্যাশা করছি।

দ্বিতীয়তঃ সম্প্রতি পুলিশ বিভাগকে নিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। যা শোনার পর মনে হয় এসব অন্ততঃ গুরুত্বপূর্ণ এই পুলিশ বিভাগকে নিয়ে অযাচিত। আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে গুরুত্ব পাচ্ছেন পুলিশ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, কথা উঠেছে, কোনো কোনো কর্মকর্তা কোনো বিশেষ দেশের সমর্থন বা পক্ষ অবলম্বন করছেন বা কোনো বিশেষ ব্যক্তির সাথে সু-সম্পর্কে বজায় রেখে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কাজ করছেন। এমন কথা চাউর হচ্ছে বলেই বলা।

পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে কোনো কথা আলোচনায় আসা দোষের ছিলো না। এখানে সবই ঠিক ছিলো, যদি না এই বিভাগের সদস্যদের যে কোন মানুষের প্রয়োজনে কাছে পেতেন বন্ধুর মতো বিশ্বাসের স্থান থেকে। এই বিভাগে নিজেদের মধ্যে যে কতো কিছু ঘটছে, এসব ঘটনার কথা মানুষ সহজেই জানতে পারছেন নানাভাবে।

এখানে বলে রাখা ভালো, সরকারি এসব বিভাগের ভিতরের তথ্য বাইরের কারো পক্ষে জানা সম্ভব হতো না, যদি না নিজেদের অস্তুিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ক্ষমতার লড়াইয়ে না জড়াতেন। এখানেও সেই একই কথা বলা চলে যে, কাকের মাংস কাকে খাচ্ছে।

বর্তমান সময়ে পুলিশ বিভাগ নিয়ে আলোচনায় আসা নানা ঘটনার অর্ধেকও যদি সত্য হয়, তাহলে দেশে এই পুলিশ বিভাগের উপর মানুষের আর বিশ্বাস এবং আস্থা থাকার কথা নয়। তাছাড়া মানুষ বিপদে তাদের কারো কাছে সহযোগিতার আশা নিয়ে ছুটে গেলে সহযোগিতা তো পায়-ই না, উল্টো আরও অপদস্ত হতে হয় অসহায় ভুক্তভোগীদের। হতে হয় অপদস্তও। তাহলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে এদের কাছে যাবে কেন, কিভাবে, আর কী কারণে?

বাকি আছে সাংবাদিক। এক সময় আমি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে পছন্দ করতাম। এখন আর কাউকে পরিচয় দিতে নিজের নামের সাথে সাংবাদিক কথাটি যুক্ত করতে চাই না। অতি সম্প্রতি দেশের সংবাদ মাধ্যম আর সংবাদ কর্মীদের নিয়ে তাদের সংবাদ পরিবেশনে অনিয়মের কারণে কথা উঠেছে। যার ধারাবাহিকতা এভাবে চলতে থাকলে দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।

দেশে এক শ্রেণির সাংবাদিক আছে যারা তাদের স্বার্থের জন্য কর্তা ব্যক্তিদের তেল দিতে দিতে নিজেদের পেশাদারিত্বের কথাও ভুলে গেছে। তাদের তেল বাজিতে দেশে এখন এমন অবস্থা হয়ে গেছে যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাগে, দুঃখে, অভিমানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, সাংবাদিক তো নয় যেন সাংঘাতিক। (কথাটি ঘুরিয়ে বলেছি)। তাহলে আমাদের দেশের সাংবাদিকদের অবস্থা কোন পর্যায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, বুঝতেই পারছেন। যেখানে সাংবাদিকদের বলা হতো সমাজের দর্পণ, সেখানে দর্পণ কি হতে পারছে সাংবাদ কর্মীরা? প্রশ্ন অনেক জোড়ালো, অথচ উত্তর নেই।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই তিনটি সেক্টর খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কাছে হবার কথা বিশ্বাস আর আস্থার শেষ আশ্রয়, তথা নিরাপদের। তা না হয়ে, হয়ে গেছে পুরো উল্টো। একটি দেশ ও দেশের জনগণকে মাথা উচু করে বাঁচতে শিখাতে পারে এই তিন সেক্টরের সদস্যরা। সেখানে এই সেক্টরের সদস্য, কর্মকর্তাই যদি হয় অসাধু তাহলে কথা-ই নেই। আমাদের দেশের এই তিনটি সেক্টরই এখন অস্বচ্ছ হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন, সেক্টরগুলো নষ্ট হয় কিভাবে, কার সাহসে বা কার ইন্ধনে?

আমার ধারনা, দেশ আমাদের এখন চলছে একজনের নির্দেশে। তিনি হচ্ছেন বর্তমান সরকারের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী। তা-ই যদি হয়, তাহলে আমি কি এটাই ভাবতে পারি যে, এই তিন সেক্টরের আজকের যে দৈন্যদশা এর পিছনে সেই প্রধানমন্ত্রীর আদেশ, নির্দেশ, ইশারা বা ইন্ধন রয়েছে?

দেশে দায়িত্বশীল কারও সাথে কথা বললে তারা বলেন, দেশের ভিতরকার অবস্থা খুব বেশি ভালো নেই। দেশে রাস্তা হচ্ছে, ব্রিজ হচ্ছে, হচ্ছে আরও অনেক কিছু। বাস্তবে যা হবার কথা, যা দেশবাশীর প্রত্যাশা বা প্রয়োজন, তা হচ্ছে কি?

অতি সম্প্রতি দেশে একটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে গেলো। নির্বাচনের ফলাফল বিবেচনা করলে বলা যায় আওয়ামী লীগ তথা সরকারের বিজয় হয়েছে। তবে পরাজয় হয়েছে দলটির নেতার নীতি আর আদর্শের। এ জন্য প্রথমেই বলা যায়, সেম সাইড মারামারি। যা কিনা মেনে নেবার মতো নয়। সরকারি দলের কর্মীদের সাথে পুলিশের লাঠিপেটা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। দ্বিতীয়তঃ নৌকার প্রতীক পেয়ে দলটির আদর্শের বাইরের কারও অংশ গ্রহণ এবং বিজয়। তৃতীয়তঃ নির্বাচনে বিরুদ্ধ দলের অংশ গ্রহণে পরিবেশ তৈরি করতে না পারা।

এসব বিষয়ের নিখুত পর্যালোচনা করার সুযোগ এখন নেই। দেশে ক্ষমতাশীন দলের মন্দ কাজ আর ব্যর্থতার সমালোচনা করা মানে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন তাদের বিরোধিতা করা। সমালোচনা আর বিরোধিতাই যদি তারা না বোঝেন, সেখানে আমাদের মতো সাধারণ আমজনতার মত প্রকাশের সুযোগ থাকলো কোথায়? সমালোচনা করলেই সেটা যে হয়ে যাবে সরকারের বিরোধিতা করা?

এসব হচ্ছে কেবল উপরে উল্লেখ করা দেশের প্রধান তিনটি বিভাগের ব্যর্থ পরিচালনা বা ইচ্ছে করে ভুল পথে পরিচালনা করায়। এসব থেকে মুক্তি পাবার প্রথম পথই হচ্ছে মুক্তমত প্রকাশের সুযোগ, তা মেনে নেবার মানসিকতা আর এই আলোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবর্তন ঘটানো। তা না হলে ক্রমেই আমরা ডুবে যাবো অন্ধকারে।

দেশে আমাদের অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। বাস্তবে যা হচ্ছে তার প্রয়োজন আছে। এসব উন্নয়ন হচ্ছে বিশ্বের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা হিসেবে। এর বাইরে আরো অনেক কিছু হচ্ছে যা প্রয়োজনের দিক থেকে কোন অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এগুলোর গুরুত্ব দিয়ে অতি দ্রুত কাজ না করলে এক সময় আরো বেশি সমস্যা তৈরি হবে দেশের অভ্যন্তরে। তখন সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনের দিন ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর মতোই হবে। যাতে মানুষ বলার সুযোগ পারে, কাকের মাংস কাকেই খাবে। সত্যি-ই তা-ই ঘটবে, এছাড়া আর উপায় থাকবে না।

লেখক: জাপান প্রবাসী সাংবাদিক।

সান নিউজ/এমকেএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

তিন দিনে তেলের দাম কমল ১৭ শতাংশ

চলমান সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব...

মোংলায় ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

মোংলা থানার একটি ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি লিটন মন্ডলকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে প...

যুবদল কমিটি নিয়ে ফের অসন্তোষ, এনির সঙ্গে পদবঞ্চিতদের বৈঠক

যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে চলমান অসন্তোষের মধ্যে আবারও বিএনপির য...

শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক...

ড. মুহাম্মদ ইউনূস: করিডোরের কৌশলগত ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে একটু ভালো করে তাকালে দেখা যায় উপরে হিমালয়ের দক্ষিণ...

গ্রেপ্তার না করলে আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন সাব...

পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে বিশেষ শর্ত, অভিযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারি কেনাকাটায় অনেক সময় পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্...

কমনওয়েলথ গেমসে হিটে ৩৬তম রাফি

কমনওয়েলথ গেমসে অ্যাথলেটিকসে ইমরানুর রহমান, বক্সিংয়ে জিনাত ফেরদৌসের পর এবার সা...

হবিগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আগা...

৪৫ বছর আগে যেভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা