মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইজিবাইক চালক মো. শাহজালাল (২৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চোরাই ইজিবাইক উদ্ধারসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গজারিয়া উপজেলার নতুন বলাকি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৮) এবং পাশ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার দাউদেরখাড়া গ্রামের খোরশেদের ছেলে ফাহিম (২৪)।
পুলিশ জানায়, গত ৬ ডিসেম্বর দুপুরে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন নদীর একটি খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেলে নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম লাশটি তার ভাই শাহজালালের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত ইজিবাইক চালক মো. শাহজালাল মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের বক্তারকান্দি গ্রামের মৃত আ. মালেকের ছেলে। তিনি অটোরিকশা/ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন দিলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবিরের তত্ত্বাবধানে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সাগর স্বীকার করে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পানীয় খাইয়ে শাহজালালকে অচেতন করে। পরে হাত-পা বেঁধে তাকে কাঞ্চন নদীর একটি খালে ফেলে দিয়ে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় ৪৭ হাজার টাকায় ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেয়।
তার দেওয়া তথ্যে একই রাতে গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে ফাহিম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার দাউদেরখাড়া এলাকায় ফাহিমের বাড়ি থেকে চোরাই ইজিবাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাননিউজ/আরআরপি