আন্তর্জাতিক

১৪ বছর পর মেয়েকে ফিরে পেল পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিখোঁজের ১৪ বছর পর মেয়েকে ফিরে পেয়েছে এক পরিবার। ২০০৬ সালে নিখোঁজ হয়েছিলন গীতা সরকার। ২০২০ সালে এসে পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। ঘটনাটি কলকাতার।

কলকাতার ফুলবাগান থানা ও একটি এনজিওর প্রচেষ্টায় পরিবারের সঙ্গে তার মিলন ঘটে। ১৪ বছর পর ভিডিও কলে মা-বাবাকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গীতা সরকার। সাথে সাথে বলে ওঠেন, ‘মা, মাগো। বাবা, তোমাদের চিনতে পেরেছি।’

চিনতে পেরেছেন বোন ও ভগ্নিপতিকেও। এর মধ্যে গীতার ছেলেমেয়েও বড় হয়ে গেছে। তার মেয়েও সন্তানের মা হয়েছেন। কিন্তু এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন বা কী অবস্থায় ছিলেন, কিছুই মনে করতে পারছেন না।

জানা গেছে, গত মার্চে ফুলবাগান থানার পুলিশ কর্মকতারা তাকে উদ্ধার করেন। এরপর তুলে দেন এক এনজিওর হাতে। ওই এনজিওর কর্মকর্তা ভারতী আইচ ও ফুলবাগান এবং মালদহের বামনগোলা থানার কর্মকতাদের সেই প্রচেষ্টায় অবশেষে ফল মিলল। ১৪ বছর পর হারিয়ে যাওয়া গীতা সরকারকে তুলে দেয়া হলো তার পরিবারের লোকদের হাতে।

পুলিশ জানায়, গত মার্চ মাস থেকে গীতা রয়েছেন ওই এনজিওর হোমে। তার পায়ে ছিল পুড়ে যাওয়া ক্ষত। পুলিশকে বলেছিলেন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছেন। এছাড়াও শুধু নিজের নামটি বলতে পেরেছিলেন। তার মানসিক সমস্যার চিকিৎসাও হয় হাসপাতালে।

ভারতী আইচ জানান, গীতা কখনও বেঙ্গালুরু, কখনও শিলিগুড়ি, কখনও মুর্শিদাবাদ, এমনকী বাংলাদেশের কয়েকটি গ্রামের নামও বলেন। কথায় অসঙ্গতি থাকায় তার ঠিকানা জানা দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।

শেষ পর্যন্ত যে জায়গাগুলোর নাম তিনি বলেছিলেন, সেই জায়গাগুলোর ছবি বের করা হয়। স্কুল, মাঠ, মন্দির ও আরও কিছু বস্তু দেখানো হয়। কয়েকটি জায়গা চিনতেও পারেন। হঠাৎই একদিন মালদহের বামনগোলা থানা এলাকার ছাতিয়ার একটি স্কুল দেখে বলেন, তিনি সেখানে পড়তেন।

ওই অঞ্চলের আরও কিছু ছবি দেখে গীতা জায়গাটি শনাক্ত করেন। এরপর ফুলবাগান থানায় জানানো হয়। ফুলবাগান থানা তার ছবি ও বিবরণ মালদহের বামনগোলা থানাকে দেয়। বামনগোলা থানার কর্মকর্তারা এলাকার পঞ্চায়েত ও বাসিন্দাদের মাধ্যমে গীতার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

কলকাতায় থাকেন গীতার বোন ও ভগ্নিপতি। তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়। গীতাকে মোবাইল স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে ভিডিও কল করা হয়। অন্য পারে ছিলেন তার মা-বাবা। ১৪ বছরের স্মৃতি মুছে গেলেও তিনি চিনতে পারেন তার মা-বাবা, বোন এবং ভগ্নিপতিকেও। তারাও মেয়েকে চিনতে পারেন।

গীতার বোন কল্পনা বালা ও ভগ্নিপতি গণেশ বালা জানান, ২০০৬ সালের ২১ জুন নিখোঁজ হন গীতা। বিয়ের পর থেকেই অমানুষিক অত্যাচার চলত তার ওপর। স্বামীর অত্যাচারের ফলে পাঁচ বছরের মেয়ে ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে এসে ওঠেন।

বাপের বাড়িতেও নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তাই এক কৃষকের বাড়িতে কাজ করে গীতা প্রতিদিন খাওয়া ও ৩০ টাকা করে পেতেন। সেই টাকা আনতে গিয়েই আর বাড়ি ফেরেননি। আগামী ২৮ তারিখ নভেম্বর গীতাকে মালদহে মা-বাবার কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

সান নিউজ/পিডিকে/এস

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

দুর্গাপূজায় কারা কতদিন ছুটি পাবেন

২০২৬ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকছে দুই দিন। সরকারি ছুটির তালিকা...

ধানমন্ডি লেক থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ আহম্মেদ (৫১) নামে এক ব্যক্তির ভা...

শতবর্ষে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে ভারত!

২০২৮ সালে শতবর্ষ পূর্ণ করবে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ঐতিহাসি...

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজ...

আইএমএফের শর্ত নয় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো...

সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গা উচ্ছেদে বাধা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে...

৮৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৮৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্...

আজ বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খোলা থাকবে যা

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ধরনের শিক্ষা...

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা

বাংলাদেশে ফেসবুকের বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন ব্যবসার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাজধা...

সৌদি জাতীয় দিবসে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা

সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা