ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশা জাগিয়েছে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক-৫’ 
স্বাস্থ্য

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশা জাগিয়েছে রাশিয়ার ‘স্পুটনিক-৫’ 

সান নিউজ ডেস্ক:

সকল সমালোচনা এবং সন্দেহকে পেছনে ফেলে রাশিয়া অবশেষে তাদের করোনা ভ্যাকসিনের ফেইজ-১/২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল প্রকাশ করেছে। গত ০৪ সেপ্টেম্বর স্বনামধন্য দি ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত নিবন্ধে দেশটি দাবি করেছে, তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক।

রাশিয়ার মস্কো শহরের বিখ্যাত গ্যামালিয়া ইন্সটিটিউট এই ডুয়েল বা দ্বৈত ভেক্টরের করোনা ভ্যাকসিনটি আবিষ্কার করেছে এবং নাম দিয়েছে স্পুটনিক-৫।

রাশিয়া এখন বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩০-৪০ হাজার ভলান্টিয়ারের ওপরে স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিনটির ফেইজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ডা. খোন্দকার মেহেদী আকরাম মনে করেন,
এই শেষ ধাপের ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হলে স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিনটি হতে পারে প্রকৃতই একটি শক্তিশালী করোনা ভ্যাকসিন।

প্রবাসী এই চিকিৎসক জানান, এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি যতোগুলো করোনা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে, তার মধ্যে গ্যামালিয়াই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা ভ্যাকসিন তৈরিতে একটির বদলে দুইটি হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর ব্যবহার করেছে। ২১ দিনের ব্যবধানে দেওয়া দুই ডোজের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজে ব্যবহার করা হয়েছে বিরল প্রজাতির অ্যাডিনোভাইরাস ‘অ্যাড-২৬’ এবং দ্বিতীয় ডোজে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ ‘অ্যাড-৫’ জাতের অ্যাডিনোভাইরাস।

ডিএনএ রিকম্বিনেন্ট টেকনোলজির মাধ্যমে এই অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টরগুলোর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়েছে নোভেল করোনাভাইরাসের একটি জিন, যা করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরিতে সক্ষম। এই স্পাইক প্রোটিনটিই শরীরে করোনাভাইরাসের বিপরীতে ইমিউন রেসপন্স ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

এই একই ধরনের অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর পদ্ধতিতে চীনের ক্যানসিনোবায়ো এবং অক্সফোর্ডের চ্যাডক্স-১ ভ্যাকসিন দুটি তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর ভ্যাকসিনগুলোর একটা বড় সমস্যা হচ্ছে এন্টি-ভেক্টর ইমিউনিটি।

ডা. খোন্দকার মেহেদী আকরাম বলেন, ‘অ্যাডিনোভাইরাস খুব সাধারণ একটা ভাইরাস এবং এটা প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে ঠাণ্ডা-সর্দি-জ্বর তৈরি করে থাকে। আর এ কারণেই আমাদের শরীরে অনেক ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসটির বিপরীতে ইমিউনিটি বা এন্টিবডি তৈরি হয়।’

‘কারো শরীরে যদি ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই অ্যাডিনোভাইরাসের বিপরীতে এন্টিবডি টাইটার ২০০ এর বেশি হয়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অনেকটাই হ্রাস পেতে পারে।

এরকম সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে কিন্তু অক্সফোর্ড মানুষের অ্যাডিনোভাইরাস ব্যবহার না করে ব্যবহার করেছে শিম্পাঞ্জির অ্যাডিনোভাইরাস। শিম্পাঞ্জির অ্যাডিনোভাইরাসের বিপরীতে মানবদেহে কোনো রকম ইমিউনিটি নেই বললেই চলে।

পরীক্ষায় মাত্র এক শতাংশ মানুষের শরীরে শিম্পাঞ্জি অ্যাডিনোভাইরাসের বিপরীতে এন্টিবডি পাওয়া গেছে (ল্যানসেট, ২০ জুলাই)।

অন্যদিকে, ক্যানসিনোবায়ো ভ্যাকসিনটি পড়েছে বেকায়দায়। বোকার মতো ভেক্টর হিসেবে তারা ব্যবহার করেছে হিউম্যান বা মানুষের অ্যাডিনোভাইরাসের খুবই কমন বা পরিচিত একটি প্রজাতি অ্যাড-৫, যার বিপরীতে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের শরীরেই এন্টিবডি পাওয়া যায় (ল্যানসেট, ২২ মে)। অতএব, ক্যানসিনোবায়ো ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতার হার নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে। ওদিকে চতুর রাশিয়া হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস ব্যবহার করলেও এক্ষেত্রে তারা বেছে নিয়েছে বিরল প্রজাতির অ্যাডিনোভাইরাস (অ্যাড-২৬) যার বিপরীতে আমাদের শরীরে ইমিউনিটি খুবই কম। আর এর ফলেই স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতায় এন্টি-ভেক্টর ইমিউনিটি তেমন কোন বিরুপ প্রভাব ফেলবে না।

গ্যামালিয়া ইন্সটিটিউট গত ১৮ জুন থেকে শুরু করে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৭৬ জন ভলান্টিয়ারের ওপর তাদের ভ্যাকসিনটির ফেইজ-১/২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালায় এবং তার পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করে ল্যানসেট জার্নালে একমাসের ভেতরেই।

ডা. খোন্দকার মেহেদী আকরাম বলেন, এ থেকেই বোঝা যায়, তাদের ট্রায়ালের ফলাফল কতোটা যথার্থ ও নির্ভুল ছিল। এতো দ্রুত সময়ে ল্যানসেটের মত জার্নালে ফলাফল প্রকাশ করা চাট্টিখানি কথা নয়!

ট্রায়ালে স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিনটির দুইটি ফর্মুলেশন পরীক্ষা করা হয়েছে, একটি হিমায়িত এবং আরেকটি লাইয়োফিলাইজড পাউডার। এই দুটি ফর্মুলেশনই বেশ ভালো কাজ করেছে এবং প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার ২৮ দিনের ভেতরেই শতভাগ ভ্যাকসিন গ্রহীতার রক্তে পর্যাপ্ত করোনাভাইরাস নিউট্রালাইজিং এন্টিবডি তৈরি করেছে, যার পরিমাণ ছিল কনভালেসেন্ট প্লাজমায় থাকা এন্টিবডির সমান। শুধু তাই নয়, দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে সবার শরীরেই টি-সেল (CD4+ এবং CD8+) রেসপন্স ঘটেছে যেখানে টি-সেলগুলো ভাইরাস নিরোধক ইন্টারফেরন-গামা তৈরি করেছে ১০ গুণেরও বেশি (ল্যানসেট, ৪ সেপ্টেম্বর)।

এ থেকে বলা যায় যে, স্পুটনিক-৫ ভ্যাকসিনটি অত্যধিক কার্যকরী এবং সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

এছাড়াও গ্যামালিয়ার দাবি হচ্ছে, যেহেতু তারা তাদের ভ্যাকসিনের প্রাথমিক ডোজ এবং বুস্টার ডোজে দুই ধরনের ভাইরাস ভেক্টর ব্যবহার করছে সেহেতু তাদের ভ্যাকসিনটি অক্সফোর্ড বা ক্যানসিনোবায়োর ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ইমিউন রেসপন্স ঘটাতে সক্ষম।

রাশিয়ার ভ্যাকসিনে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের মতো কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও পরিলক্ষিত হয়েছে। যেমন ভ্যাকসিন পরবর্তী গা ব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা, টিকার স্থানে ব্যথা ইত্যাদি। তবে ভ্যাকসিনটি তেমন কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি।

সান নিউজ/ এআর

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

ঈদের পরদিনও বাস ভাড়া দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের পরদিনও রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। তবে তা ঈ...

পাহাড়ে ৩ দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব শুরু

জেলা প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য...

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: পহেলা বৈশাখকে স...

আগামীকাল চৈত্র সংক্রান্তি 

সান নিউজ ডেস্ক: আগামীকাল চৈত্র সং...

প্রাইভেটকার-বাইক সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কোনাপাড়ায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাই...

ডেঙ্গু রোগের বেস্ট চিকিৎসা প্রিভেনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন...

অটোরিকশা খাদে পড়ে নিহত ২

জেলা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা নি...

বিএনপি জনগণকে বিভ্রান্ত করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যখন পবিত্র ঈদ...

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে পুলিশের গুলিতে এক...

দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

জেলা প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা