সারাদেশ

পরিত্যক্ত বর্জ্যে উৎপাদিত পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

মো. নাজির হোসেন, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে কুড়িয়ে আনা পরিত্যক্ত বর্জ্যে শহরের উপকন্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নে উৎপাদিত হচ্ছে সুতাসহ প্লাষ্টিক সামগ্রী। ইতোমধ্যে ওই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ৩০-৩৫টি কারখানা গড়ে উঠেছে। সেখানে সুতা ছাড়াও প্লাষ্টিকের চেয়ার, রকমারী খেলনা, বালতি ও হ্যাংকার উৎপাদন করা হচ্ছে। আবার উৎপাদিত এসব প্লাষ্টিক সামগ্রী যাচ্ছে ভারত, চীন ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে।

আরও পড়ুন: চীনে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৬

একদিকে, পরিত্যক্ত বর্জ্য থেকে সুতা ও প্লাষ্টিক সামগ্রী উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দুষনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। অন্যদিকে উৎপাদিত এসব সামগ্রী দেশের বাইরে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাষ্টিকের বস্তাসহ বিভিন্ন প্লাষ্টিক কুড়িয়ে এনে থাকেন একদল নারী ও শিশু। বসতবাড়ি ও সড়কের পাশের ময়লার স্তুপ থেকেই মূলত: পরিত্যক্ত প্লাষ্টিকের বস্তা ও পলিথিন কুড়িয়ে এনে থাকে নারী ও শিশুরা।

আরও পড়ুন: ২০০ কোটি টিকটক অ্যাকাউন্ট হ্যাকড

এরপর শহরের উপকন্ঠ দূর্গাবাড়ি এলাকায় গড়ে উঠা কারখানাগুলোতে সেগুলো রিফাইন করে উৎপাদন করা হয় সুতা ও অন্যান্য প্লাষ্টিক সামগ্রী। পঞ্চসার ইউনিয়নের দূর্গা বাড়ি, পঞ্চসার, জোড়পুকুর পাড় ও রামেরগাঁও গ্রামে কারখানাগুলোতে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিকের বস্তাসহ পলিথিন থেকে সুতা ও প্লাষ্টিকের সামগ্রী উৎপাদন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক সামগ্রী ছোট ছোট টুকরো করা হচ্ছে। এরপর মেশিনের সাহয্যে সেগুলো গলিয়ে গোলাকার চাক তৈরি করছে। পরবর্তীতে ওই গোলাকার চাক মেশিনের মাধ্যমে কেটে গুটি করা হচ্ছে। আর সে গুটি থেকে সুতা, চেয়ার, বালতি, খেলনাসহ প্লাষ্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কলেজ কক্ষে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

পঞ্চসার গ্রামের শেফালী এন্টারপ্রাইজের মালিক মুক্তার হোসেন প্রায় ৮ বছর আগে কারখানা গড়ে তোলেন। তিনি জানান, যেসব প্লাষ্টিকের বস্তা ও অন্যান্য সামগ্রী মানুষ রাস্তা কিংবা বসতবাড়ির পাশে ফেলে দেয়, ময়লা-আবর্জনা থেকে লোক দিয়ে সেগুলো কুড়িয়ে সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো থেকে সুতাসহ প্লাষ্টিকের নানা সামগ্রী উৎপাদন করে থাকে। তার কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত প্লাষ্টিকের সামগ্রী বিক্রি করে থাকি। এছাড়া এসব সামগ্রী দেশের বাইরে চীন, ভারত ও মালয়েশিয়াতেও রফতানি হয়ে থাকে। কারখানা দেওয়ার শুরুতে অনেক লাভ হতো। এখন বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চীনে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৬

মেসার্স সোহেল টেডার্সের স্বত্বাধিকারী সোহেল মাদবর জানান, তিনি দীর্ঘ ৯ বছর দক্ষিণ কোরিয়া ছিলেন। দেশে ফিরে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক পন্য থেকে সুতা ও প্লাষ্টিকের সামগ্রী উৎপাদনের কারখানা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্জ্য কিনে এনে রিসাইকেল করে প্লাষ্টিকের বালতি, হ্যাঙ্গার ও সুতা উৎপাদন করে থাকি।

আরও পড়ুন: ফের বেড়েছে মৃত্যু ও শনাক্ত

ইবাদ ফাইবারের মালিক রুবেল হোসেন বলেন, আমরা পরিবেশ দুষনকারী পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক সংগ্রহ করে রিসাইকেল করার মধ্য দিয়ে পরিবেশ সুন্দর রাখার পাশাপাশি সুতা ও প্লাষ্টিকের সামগ্রী উৎপাদন করে আসছি। আগে এ ব্যবসা ভালো ছিলো। বর্তমানে বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ঋণ দরকার। সরকার ঋণ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ করলে এ কারখানা মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবে।

শহরের উপকন্ঠ মুক্তারপুরস্থ মুন্সীগঞ্জ বিসিকের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এখানে প্লাষ্টিক রিফাইন করার বেশ কিছু কারখানা গড়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার সাথে থাকা পরিত্যক্ত প্লাষ্টিকের সামগ্রী সংগ্রহ করে রিফাইন করে কারখানাগুলো। এরপর সেখানে সুতা ও প্লাষ্টিকের নানা সামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য ভালো। সরকারে উচিত এদের প্রণোদনা দেওয়া। ইতোমধ্যে ৩টি কারখানা মালিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা তাদের ক্ষুদ্র ঋণ দিয়েছি।

সান নিউজ/কেএমএল

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সিরাজগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি...

ঈদুল আজহায় কোটি পশু কোরবানির সম্ভাবনা: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহায় এবার সারা দেশে প্রায় এক কোটি পশু...

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছ...

কাবা শরিফ ঢেকে রাখা হয় কেন, কিসওয়া কী

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আন...

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি কার গায়ে থাকবে

ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি একটি গুরুত্ব বহন করে। কিছু...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা