সারাদেশ

অধ্যক্ষকে পেটানোয় চেয়ারম্যান গ্রেফতার

সান নিউজ ডেস্ক: খুলনার কয়রায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগে জেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আরও পড়ুন: বিশ্বে জুড়ে বেড়েছে শনাক্ত রোগী

শুক্রবার (২২ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৬-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বজলুর রশীদ। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে খুলনা শহরের ভাড়া বাসা থেকে বাহারুলকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই কয়রা উত্তরচক আমিনীয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমানকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ‍বিরুদ্ধে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কয়রা থানায় অধ্যক্ষের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন।

আরও পড়ুন: বিক্ষোভকারীদের ওপর নিষ্ঠুর আক্রমণ

বিষয়টি নিশ্চিত করে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএমএস দোহা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার দিকে অধ্যক্ষের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার অন্যতম আসামি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে র‍্যাব গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

এদিকে, আহত শিক্ষক মাসুদুর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, গত সোমবার মাদ্রাসায় কাজ করছিলেন। ওই সময় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় ইউনুসুর রহমান, নিয়াজ হোসেন, মাসুদুর রহমান, মিলন হোসেন, জহুরুল ইসলাম, রিয়াল, আমিরুল, অমিত মন্ডল, রফিকুল গাজী, সাদিকসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাকে জোর করে ধরে কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: ট্রাকচাপায় নারীসহ চালক নিহত

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ মোস্তফা আব্দুল মালেকের উপস্থিতিতে বাহারুল আমাকে গালাগাল করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাকে ফেলে চোখে, ঘাড়ে, কানে, পিঠে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এরপর সেখান থেকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানেও বেদম মারপিট করা হয়। এতে আমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায়। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘জ্ঞান ফিরলে চেয়ারম্যান আমাকে মাদ্রাসা থেকে পদত্যাগ করতে বলেন। পরে কয়রা থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আমাকে উদ্ধার করে। প্রথমে আমাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।’

আরও পড়ুন: এমপি আদেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

তিনি আরও জানান, তার মাদ্রাসাটি ঢাকার ইসলামিক অ্যারাবিক ইউনিভার্সিটির আওতাভুক্ত। তিন মাস আগে কলেজে সভাপতির দায়িত্ব দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজনের নাম চাওয়া হয়েছিল। তখন চেয়ারম্যান বাহারুল তার নাম দিতে জোর করেছিলেন। বাধ্য হয়ে বাহারুলসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছিলাম, তবে ইউনিভার্সিটি থেকে সেটা রিজেক্ট করে নতুন করে কমিটি দিতে বলা হয়েছিল। পরে আমি মহারাজপুরের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল মাহমুদসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব করে আরেকটি কমিটি জমা দিই। তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহারাজপুরের চেয়ারম্যানকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।’

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এরপর থেকেই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আমাকে নানা প্রকার হুমকি দিয়ে আসছেন। কয়েক দিন আগে আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সভাপতি হতে পারিনি, তখন আমার কিছু টাকা খরচ হয়েছিল। সেই জন্য এক লাখ টাকা দিতে হবে। প্রাণের ভয়ে টাকা দিয়েছি। তারপরও সে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে। বলেছে, অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে। না হলে এলাকায় ফিরতে পারব না। থানায় জানালেও মামলা না নিয়ে, প্রথমে বিষয়টি মিটমাট করতে বলা হচ্ছিল, পরে পত্রপত্রিকায় লেখা হলে থানায় মামলা নিয়েছে।’

আরও পড়ুন: পূর্ণিমাকে প্রাক্তন স্বামী ফাহাদের শুভেচ্ছা

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন মোস্তফা আব্দুল মালেক। তিনি অবসরে যাওয়ার পরে মাদ্রাসার সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি সভাপতি না হতে পেরে, আমাকে সভাপতি করতে চেয়েছিলেন। সেখানে অধিকাংশ শিক্ষকরা ক্লাস ঠিকমতো করে না, বাইরে ঘুরে বেড়ান। তারা দেখলেন, আমি যদি সভাপতি হই তবে সমস্যা, আমি নিয়ম কড়াকড়ি করি। আমার সঙ্গে মহারাজপুরের চেয়ারম্যানের একটু সমস্যা আছে। তারা সেই চেয়ারম্যানকে এনে আমার ইউনিয়নে মাদ্রাসার সভাপতি বানাইছে। এই নিয়ে একটু বিরোধ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের লোকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের ঠেলাঠেলি হয়েছিল। পরে তারা অধ্যক্ষকে আমার কার্যালয়ে এনেছিলেন। তখন আমি তার স্ত্রীকে খবর দিই। সে (অধ্যক্ষ) আমাকে একটা লিখিত দেয়। এরপর তাকে আমরা নিয়ে যাই। এটা আমরা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করব। তারপরে নানা রকমের অভিযোগ শুনতে পারি। আমি মারধরের কোনো ঘটনায় জড়িত নই। তিনি যদি এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারে, তবে আমি দোষী।’

আরও পড়ুন: ফের বিয়ে করে ভাইরাল পূর্ণিমা

সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৬-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বজলুর রশীদ বলেন, ‘গ্রেফতার চেয়ারম্যানকে কয়রা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

সান নিউজ/কেএমএল

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জুয়েলের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ইওয়েফাক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিন...

মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার হাসপাতাল রোড ও শহরের উপকণ্ঠ পঞ্চসার ইউনিয়নে জাতীয় ভোক্...

ক্রিকেটারদের আলটিমেটামের মুখে নাজমুলকে অব্যাহতি দিল বিসিবি

বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে এম নাজমুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলা...

ফের সড়ক অবরোধ করেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) গঠনের অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সাত কলেজের শ...

নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর জায়গা দখল করে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ওয়ারিশ সম্পত্তি দখল করে বিএনপির ওয়ার্ড কার...

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে...

৩ দিন পর গণজমায়েত মঞ্চ তৈরির ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

অবরোধ কর্মসূচি পালনের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর গুরুত...

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জুয়েলের মৃত্যুতে শোকসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ইওয়েফাক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিন...

মাদারীপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ায় কাজী ওবায়দুর রহমানকে সংবর্ধনা

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে মাদারীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হিসেবে...

ডাসারে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ কে সামনে রেখে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা