সারাদেশ

উপকূলীয় নোনাভূমিতে বাড়ছে আলু চাষ

আসাফুর রহমানকাজল, খুলনাঃ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকেন উপক‚লের মানুষেরা। একের পর একঘূর্ণিঝড় আর জলো”ছাসে বারবার বিধ্বস্ত খুলনার কয়রা উপজেলার উপক‚লীয় মানুষগুলোওজীবনের জয়গান গেয়ে যান রুদ্র প্রকৃতির বিরুদ্ধে। সিডর, আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেবারবার স্বপ্নখঙ্গ হয় কৃষকের। তারপরও যেন হাল ছাড়েন না তারা। এই জনপদ বারবারনোনাপানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মাটিতেও বাড়ে লবনাক্ততা। স্বাভাবিকভাবেই ফসলের ক্ষতি হয়বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। লবনাক্ততা কমতে থাকলে আবারও ঘুরে দাঁড়ান কৃষক। নতুন সেই স্বপ্নআর চেষ্টাতে এবার তাই আলু চাষে সফল হয়েছেন অনেকেই। বাড়ির আঙিনা থেকেআঙিনায় চোখে পড়ে আলুর চাষাবাদ। উপকূলীয় এ অঞ্চলে বৃষ্টির পরে শীতে লবনাক্ততার মাত্রাকমে গেলে ¯’ানীয় বাসিন্দারা পরিবারের চাহিদা মেটাতে আলুর চাষ করছেন। আর উৎপাদনবেশি হলে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন নোনাভূমির মানুষেরা। কৃষি অফিস বলছে, এবারউপজেলায় প্রায় ৬হাজার বাড়িরে আঙিনায় আলু চাষাবাদ হয়েছে। ¯’ানীয়রা বলছেন, সিডর,আইলার মতো ঘুর্ণিঝড়ের পর প্রায় ৫/৭ বছর এলাকায় তেমন কোন ফসল উৎপাদন হয়নি। মাটিরলবনাক্ততা কমে গেলে আবার নতুন করে শুরু হ”েছ চাষাবাদ। এখন এ এলাকার গ্রামের পথ ধরে চলতেগেলে চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। শীতের সময় মাটিতে লবনাক্ততা কম হওয়ায় এলাকারনারী-পুরুষেরা নিজ বাড়ির আঙিনায় শুরু করেছেন বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষাবাদ। এর মধ্যেবেড়েছে আলু আবাদ। আলুর পাশাপাশি রয়েছে টমেটো, বেগুন, শীম, বরবটি, লাউসহ নানাধরণের সবজি। উপজেলার দক্ষিনবেদকাশি ইউনিয়নের মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, এলাকার ঘরে-বাইরে সবখানেই লবণ। সুন্দরবনেরপেটের মধ্যে এ ইউনিয়ন। ফলে কোন ধরণের ঝড় বা জলো”ছাসে লোকালয়ে নোনা পানি ঢুকেযায়। নষ্ট হয় সব ধরণের গাছ-পালা। তবে শীতের সময় এ উপজেলার মানুষ কিছু শাক-সবজিরচাষাবাদ করে থাকে। আমি বাড়ির উঠানে ৩ শতক জায়গায় আলুর চাষ করেছি। উঠানে সবুজ গাছদেখেলে মন ভরে যায়। ৩নং কয়রার মাঝেরআঁটিএলাকার অচিন্ত্য সরকার জানান, আমি বাড়ির আঙিনায় ১৫ শতক জমিতে আলুর চাষ করেছি। আশাকরছি ফলন ভাল হবে। পরিবারের চাহিদা মেটাতে আলুর চাষাবাদ করি। তবে ফলন বেশি হলে¯’ানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হয়। আশা করছি এবার ২২/২৫ মন আলু উৎপাদন হবে। উপজেলাকৃষি অফিস থেকে ¯’ানীয় কৃষকদের তালিকা করে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ দেয়া হ”েছ। ¯’ানীয়কৃষকদের মধ্যে কৃষি কাজে আগ্রহও বাড়ছে। উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা এসএম মিজান মাহমুদ জানান, এখানকার অনেক জমি নোনা পানিতে ডুবে থাকে মাসেরপর মাস। লোকালয়ে রয়েছে লবণ পানির ঘের। ফলে প্রায় সবখানে নোনা ভাব রয়েছে। আমরাতাই কৃষকদেরকে সময় উপযোগি বিভিন্ন পরামর্শ আর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি, বাড়িতে বাড়িতে আয়োজনকরি উঠান বৈঠক। এ এলাকায় লবক্ততার পরিমান বেশি থাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি আবাদহীন পড়েথাকে। এখন অনেক জায়গায় চাষাবাদ হ”েছ। এবছর বাড়ির আঙিনায় আলু চাষাবাদের পরিমানবাড়ছে।

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

সরকার বিকল্প শ্রম বাজার খুঁজছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্...

হিসাববিজ্ঞানীদের কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক বিশ্বে হিসাববিজ্ঞান...

আমাদের উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নাই’ : বাকের কালিবাফ

যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্ট...

ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত রাখাই একমাত্র সমাধান?

ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট...

সাজানো সংকট দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

মাদারীপুরের গ্যাসের গোডাউনে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নি...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা