বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেমের নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর তৃতীয় দফা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং চাঁদাগাড়া ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় এবং সোমবার রাত ১০টার দিকে তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় জানাজা শেষে মিরপুর পৌরসভার ওয়াবদা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মিরপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ খন্দকার একেএম আলী মুহসীন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর, জেলা সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া শহর আমির মো. এনামুল হক, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক নুরুল আমিন জসিম, জেলা টিম সদস্য অধ্যাপক জুমারত আলী, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন, ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় জানাজায় অংশ নেন জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আলেম সমাজ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মুসল্লিরা।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সোমবার কুষ্টিয়া শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় জেলা জামায়াত। মিছিল শেষে একতারা মোড় এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাঁকে কুষ্টিয়া শহরের মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাঁর মৃত্যুতে জামায়াতের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়।
সোমবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুল রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, অধ্যাপক আবুল হাশেম ছিলেন একজন আদর্শবান, নিষ্ঠাবান ও সংগ্রামী ইসলামী ব্যক্তিত্ব। দ্বীনের পথে তাঁর অবদান ও নেতৃত্ব সংগঠনের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অধ্যাপক আবুল হাশেম ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
সাননিউজ/এসএ