জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বলেছেন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এমপি প্রার্থী, জুলাই যোদ্ধা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সারাদেশের এসব ঘটনা এবং লক্ষ্মীপুরের ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার প্রতিবাদে।
রেজাউল করিম বলেন, প্রশাসনকে কখনো কখনো একপক্ষীয় নীতি অবলম্বন করতে দেখা যায়। একপক্ষ মামলা দিতে গেলে তারা বলে, ‘আরেক পক্ষও মামলা দেবে, নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করুন।’ এ ধরনের কথা বলা উচিত নয়। প্রশাসনের কাছ থেকে আমরা অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করি। আমরা রাতেই এজাহার দায়ের করেছি, কিন্তু প্রশাসন এখনো মামলা গ্রহণ করেনি। তাহলে কি প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারাতে বসেছে? যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ সময় লিখিত বক্তব্য দেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি এ. আর. হাফিজ উল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্লাহ পাটওয়ারী, লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমীর আবুল ফারাহ নিশান এবং চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম খান সুমন।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, হেজবুল্লাহ নামে জামায়াতের একজন ব্যক্তি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, চরশাহী ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় দলের ১০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর সদর হাসপাতালে ভর্তি আহতদের দেখতে আসা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে ছিল।
সাননিউজ/আরআরপি