মাদারীপুরের ডাসারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৩টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে করে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার আব্বাস চৌধুরীর বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উভয়পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে আব্বাসের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবুল জমাদ্দারের বাড়িসহ তাদের লোকজনের বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের ১৩টি বসতঘরে লুটপাট ও ভাঙচুরের পর ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাঁধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে আগুনে ১৩টি বসতঘর পুড়ে গেছে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বেল্লাল জমাদ্দার বলেন, ‘আমাদের জানই বাঁচে না, মালামাল সরাবো কিভাবে। আগুনে আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু আমি একা নই, জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে কিছু আর বাকি নেই। সব পুড়ে শ্যাষ। আমরা কোন কিছু বোঝার আগেই আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এই হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আবুল ও আব্বাস গ্রুপের মধ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজকের ঘটনার সূত্রপাত। এ ছাড়াও দুই গ্রুপের মধ্যে জায়গা ও জমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। দুদিন আগে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আজ সেই সংঘাত বড় আকারে সংঘটিত হয়। আনোয়ার-আবুল গ্রুপের ১৩টি ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাননিউজ/আরআরপি