পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বৃহৎ উদ্যোগের উদ্বোধন করেছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ কর্মসূচির ফলে পরিবেশগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৃহৎ পরিসরের এই বনায়ন কার্যক্রম দেশের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন অর্থবছরে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কর্মসূচির আওতায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্লক বাগান, স্ট্রিপ বাগান এবং ম্যানগ্রোভ বাগান স্থাপনের মাধ্যমে কোটি কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের বসতবাড়ি বনায়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে লাখ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের ধারণা, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে এই উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।
কক্সবাজার সফরে একাধিক উন্নয়ন কার্যক্রম
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পেকুয়া ও মাতামুহুরী অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভার বক্তব্য এবং স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
পরিবেশবিদদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ পরিস্থিতিতে বৃহৎ আকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু পরিবেশ সুরক্ষাই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার আশা করছে, পাঁচ বছরব্যাপী এই উদ্যোগ দেশের বনভূমির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।