মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ডের একটি ভাসমান স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৩ নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সুন্দরবনসংলগ্ন জয়মনিরঘোল এলাকার হাড়বাড়িয়া ভাসমান স্টেশনে সংঘবদ্ধ একটি দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনা ও সরঞ্জামে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কোস্ট গার্ডের তিন সদস্য আহত হন।
কোস্ট গার্ডের দাবি, সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যু দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিচালিত অভিযানের কারণে অপরাধচক্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সংস্থাটির মতে, স্টেশনটি স্থাপনের পর থেকে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিভিন্ন রুট ও সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্তদের স্বজনদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকা স্থানীয় যুবক মিরাজ শেখের খোঁজ জানতে কোস্ট গার্ড স্টেশনে যান তার স্বজন ও এলাকাবাসী। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
হামলার ঘটনায় কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান শাহিন বাদী হয়ে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪৪ জনকে নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও প্রায় ৩০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতভর জয়মনি এলাকায় যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুলতান শেখসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তা বেগম, লিজা ইসলাম, তাসলিমা বেগম, সুলতান শেখ, মহারাজ খান ও শাহজালাল ফরাজী। তাদের সবার বাড়ি জয়মনি এলাকায় বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ডের সরবরাহ করা ভিডিও ফুটেজ এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযানের পর জয়মনি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শুধু পুরুষ নয়, অনেক নারীও বাড়িঘর ছেড়ে আশপাশের নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে সুন্দরবনসংলগ্ন এই জনপদে এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।