সুন্দরবনের মোংলা থানার অন্তর্গত জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে যৌথ অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে পরিচিত। এ কারণে সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়। স্টেশনটি চালুর পর বনদস্যুদের কাছে খাদ্য, অস্ত্র, লজিস্টিক সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পথ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত আকস্মিক হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলার সময় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কোস্ট গার্ডের ধারণা, কিছু অসাধু ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ওই এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুন্দরবনে চলমান বনদস্যু দমন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপপ্রচার, গুজব কিংবা ষড়যন্ত্র তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন ও অভিযান পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা, শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে। বনদস্যু দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের চলমান কার্যক্রম কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হামলা বা অপতৎপরতার মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।