রাতের আঁধারে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও গেটের তালা ভেঙে ফেনীর দাগনভূঞায় একটি ইটভাটার মাটি লুট করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাধা দেওয়ায় ভাটার মালিকদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে আদালতে মামলা করেও বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আদালত ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামে দাগনভূঞা–বসুরহাট সড়কের পূর্ব পাশে ২০০৪ সালে ২৩১ শতাংশ জমির ওপর এবি ব্রিকস ফিল্ড নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন একই উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বৈঠারপাড়া গ্রামের তিন ভাই জুলফিকার আহম্মদ, ইমতিয়াজ আহম্মদ ও কাজল। দীর্ঘ অনেক বছর সুন্দরভাবে ভাটায় ইট তৈরি করলেও লোকসানের মুখে ২০১২ সালে সংকটের কারণে তা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এরই মধ্যে ফেনী–বসুরহাট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজে ব্যবহৃত উপকরণ রাখার জন্য ঠিকাদারকে ইটভাটাটির খোলা জায়গা ভাড়া দেওয়া হয়। এর ফলে ভাটায় রাখা মালামাল রক্ষায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ ভাটায় আগে থেকেই নিরাপত্তা গেট ছিল।
সম্প্রতি ভাটাটি আবারও চালুর লক্ষ্যে মালিকপক্ষ প্রস্তুতি নেয়। এর অংশ হিসেবে ভাটায় আগে থেকে সংরক্ষিত মাটির একটি স্তূপের আগাছা পরিষ্কার করা হয়। এ সুযোগে একই উপজেলার করমুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু হায়দার পলিন, দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মো. সিরাজ, আলাউদ্দিন ও নুরে জামান গত ১২ ডিসেম্বর থেকে প্রতি রাতে বেশ কয়েকটি ট্রাক্টরযোগে অন্যত্র মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। এমন খবর পেয়ে মালিক জুলফিকার আহম্মদ ও ইমতিয়াজ আহম্মদ ১২ ডিসেম্বর সকালে ভাটায় গেলে পলিনসহ আরও দুইজন তাঁদের ওপর হামলা করতে তেড়ে আসে। প্রাণ রক্ষায় একপর্যায়ে দুই ভাই ভাটা থেকে পালিয়ে আসেন।
ভাটা থেকে লুট হওয়া মাটি ফেরত, অবশিষ্ট মাটি রক্ষা এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে লিখিত অভিযোগ নিয়ে দাগনভূঞা থানায় গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। থানায় যাওয়ার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ভাটা থেকে দ্রুত মাটি লুট করে নেয়। স্থানীয় গণ্যমান্যদের দ্বারস্থ হলেও কোনো উপায় না পেয়ে ১৮ ডিসেম্বর ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। বিচারক বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে ওই ভাটা থেকে মাটি সরানো বন্ধে ১৪৫ ধারা জারি করেন।
২০ ডিসেম্বর সকালে মালিকপক্ষ তাদের ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে দেখেন অভিযুক্তরা ট্রাক্টরযোগে মাটি সরিয়ে নিচ্ছে। এ সময় মালিকরা আদালতের ১৪৫ ধারা জারির কথা বলতেই আবু হায়দার পলিন, মো. সিরাজ, আলাউদ্দিন ও নুরে জামান ভাটার মালিকদের ওপর হামলা করে।
এ ঘটনায় ভাটার মালিক জুলফিকার আহম্মদ ২২ ডিসেম্বর মাটি লুট বন্ধ ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দাগনভূঞা আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালত বাদীর আবেদন গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দাগনভূঞা থানাকে নির্দেশ দেন।
ভাটার মালিকরা অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে আসামিরা প্রতি রাতে অন্তত ২০টি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে মালিকপক্ষ বাধা দিতে গেলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে মাটি লুট ও ভাটার মালিকদের হুমকির অভিযোগ বিষয়ে জানতে আবু হায়দার পলিনের মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
দাগনভূঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বলেন, থানায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আর আদালত থেকেও এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। পেলে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
সাননিউজ/আরআরপি